রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, তালডাংরা: বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের অন্যতম কেন্দ্র তালডাংরায় উপ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হল। বুধবার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে কোনও দলই হিংসা বা সন্ত্রাসের কোনও অভিযোগ তোলেনি। ভোটারদের বাধা দেওয়ার মতো কোনও ঘটনাও ঘটেনি। বরং সিমলাপালের লক্ষ্মীসাগর অঞ্চলের অলকাধরা এলাকায় গিয়ে একই জায়গায় বসে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মুড়ি, আলুর দম খেতে দেখা যায়। ভোটের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহবাবু বিধানসভা এলাকা কার্যত চষে বেড়ান। তবে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীর বুথমুখো না হওয়াটা রাজনৈতিক মহলকে অবাক করেছে। বিজেপি প্রার্থী অনন্যা রায় চক্রবর্তীকে কোনও বুথেই দেখা যায়নি। তালডাংরায় বাপের বাড়িতে বসেই অনন্যাদেবী ভোট পরিচালনা করেন। সিপিএম প্রার্থী দেবকান্তি মোহান্তি ও কংগ্রেস প্রার্থী তুষারকান্তি ষন্নিগ্রাহী নিজেদের মতো করে এলাকায় ঘুরেছেন।
Advertisement
অনন্যাদেবী বলেন, এদিন তৃণমূল বুথে বুথে নীরবে প্রচার করেছে। অনেককে ভোটদানের সময় প্রভাবিতও করা হয়। আমরা কমিশনের কাছে সেইসব অভিযোগ করেছি। আমি এদিন তালডাংরায় বাপের বাড়িতে ‘ওয়ার রুম’ খুলেছিলাম। সেখান থেকেই ভোট পরিচালনা করি। কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুভাষ সরকারও এদিন বাঁকুড়া শহরে ‘ওয়ার রুম’ খোলেন। দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখান থেকে তিনি ভোটে ‘নজরদারি’ চালান। সুভাষবাবু বলেন, অন্য বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ এদিন তালডাংরায় প্রবেশ করেছিল। আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি।
ফাল্গুনীবাবু বলেন, হাওয়া বেগতিক বুঝেই বিজেপি প্রার্থী নিজেকে ঘরবন্দি করে রেখেছিলেন। আসলে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া বিজেপি-র পাশে দাঁড়ানোর আর কেউ নেই। এদিনও বাহিনীর একাংশ ‘বাড়াবাড়ি’ করেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সেই অভিযোগ জানিয়েছি। এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমি ২৮-৩০টি বুথে ঘুরেছি। কোথাও কোনও গণ্ডগোল হয়নি। বিজেপি নেতারা ঘরে বসে অভিযোগ করে গিয়েছেন। আমাদের দলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, এদিন ১০০-র কিছু বেশি অভিযোগ জমা পড়ে। তবে জমা পড়া অভিযোগের শতকরা ৯৯ শতাংশ ভিত্তিহীন। প্রশাসনের আধিকারিকদের ব্যস্ত রাখার জন্যই ওইসব অভিযোগ করা হয়েছিল বলে আমাদের অনুমান। জেলায় এদিন ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যান্ত্রিক গোলোযোগের কারণে পাঁচটি বুথে শুধুমাত্র ভিভিপ্যাট বদল করতে হয়েছিল। তিনটি বুথে ভিভিপ্যাট, ইভিএম সহ গোটা সেটই বদল করতে হয়। এদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলায় ৭৫.২ শতাংশ ভোট পড়ে। শেষ পর্যন্ত আরও আড়াই-তিন শতাংশ ভোট পড়তে পারে।
এদিন সকাল থেকেই তালডাংরাবাসী ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ে। মানুষের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও উৎসবের মেজাজ লক্ষ্য করা যায়নি। সিমলাপালের মদনমোহন উচ্চ বিদ্যালয় বা তালডাংরার ফুলমতি হাই স্কুলের মডেল বুথও দিনের বেশিরভাগ সময় খাঁ খাঁ করেছে। ভোটারদের মধ্যে চম্পা সিংহ, অবিনাশ পাত্র বলেন, বর্তমানে মাঠে ধান কাটার কাজ চলছে। সেই কারণে অনেকেই সকাল থেকে ভোট দিতে আসতে পারেননি। বেলা বাড়ার পর বুথগুলিতে কিছুটা হলেও ভিড় বাড়তে থাকে।
সিপিএম প্রার্থী দেবকান্তি মোহান্তি বলেন, অনুন্নয়নের অভিযোগ তুলে তালডংরার একটি গ্রামের মানুষ ভোটদানে অংশ নেয়নি। কয়েকটি বুথে আমাদের এজেন্টদের বসতে বাধা দেওয়া হয়। তবে মানুষ প্রতিরোধ করে। এদিন মোটের উপর ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুভাষ সরকারও এদিন বাঁকুড়া শহরে ‘ওয়ার রুম’ খোলেন। দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখান থেকে তিনি ভোটে ‘নজরদারি’ চালান। সুভাষবাবু বলেন, অন্য বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ এদিন তালডাংরায় প্রবেশ করেছিল। আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি।
ফাল্গুনীবাবু বলেন, হাওয়া বেগতিক বুঝেই বিজেপি প্রার্থী নিজেকে ঘরবন্দি করে রেখেছিলেন। আসলে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া বিজেপি-র পাশে দাঁড়ানোর আর কেউ নেই। এদিনও বাহিনীর একাংশ ‘বাড়াবাড়ি’ করেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সেই অভিযোগ জানিয়েছি। এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমি ২৮-৩০টি বুথে ঘুরেছি। কোথাও কোনও গণ্ডগোল হয়নি। বিজেপি নেতারা ঘরে বসে অভিযোগ করে গিয়েছেন। আমাদের দলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, এদিন ১০০-র কিছু বেশি অভিযোগ জমা পড়ে। তবে জমা পড়া অভিযোগের শতকরা ৯৯ শতাংশ ভিত্তিহীন। প্রশাসনের আধিকারিকদের ব্যস্ত রাখার জন্যই ওইসব অভিযোগ করা হয়েছিল বলে আমাদের অনুমান। জেলায় এদিন ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যান্ত্রিক গোলোযোগের কারণে পাঁচটি বুথে শুধুমাত্র ভিভিপ্যাট বদল করতে হয়েছিল। তিনটি বুথে ভিভিপ্যাট, ইভিএম সহ গোটা সেটই বদল করতে হয়। এদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলায় ৭৫.২ শতাংশ ভোট পড়ে। শেষ পর্যন্ত আরও আড়াই-তিন শতাংশ ভোট পড়তে পারে।
এদিন সকাল থেকেই তালডাংরাবাসী ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ে। মানুষের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও উৎসবের মেজাজ লক্ষ্য করা যায়নি। সিমলাপালের মদনমোহন উচ্চ বিদ্যালয় বা তালডাংরার ফুলমতি হাই স্কুলের মডেল বুথও দিনের বেশিরভাগ সময় খাঁ খাঁ করেছে। ভোটারদের মধ্যে চম্পা সিংহ, অবিনাশ পাত্র বলেন, বর্তমানে মাঠে ধান কাটার কাজ চলছে। সেই কারণে অনেকেই সকাল থেকে ভোট দিতে আসতে পারেননি। বেলা বাড়ার পর বুথগুলিতে কিছুটা হলেও ভিড় বাড়তে থাকে।
সিপিএম প্রার্থী দেবকান্তি মোহান্তি বলেন, অনুন্নয়নের অভিযোগ তুলে তালডংরার একটি গ্রামের মানুষ ভোটদানে অংশ নেয়নি। কয়েকটি বুথে আমাদের এজেন্টদের বসতে বাধা দেওয়া হয়। তবে মানুষ প্রতিরোধ করে। এদিন মোটের উপর ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র



