Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শান্তিপুরে অভাবের সঙ্গে লড়াই করে উচ্চ মাধ্যমিকে দিব্যাঙ্গ যমজ বোন

শান্তিপুরে অভাবের সঙ্গে লড়াই করে উচ্চ মাধ্যমিকে দিব্যাঙ্গ যমজ বোন
  • ৪ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: যমজ দুই বোনই ৯০শতাংশ প্রতিবন্ধী। একজনের হাঁটা ও কথা বলায় সমস্যা আছে। অন্যজনের মস্তিষ্কের জটিল রোগের কারণে খুব দুর্বল স্মৃতিশক্তি। অভাবের সংসারে পড়াশোনা ও চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারকে হিমশিম খেতে হয়। তাও অদম্য মনোবলের জেরে উচ্চমাধ্যমিকে বসল শান্তিপুরের দুই বোন রুমা ও ঝুমা। রাজ্য সরকারের কন্যাশ্রী প্রকল্প ও মানবিক ভাতার মতো জনমুখী প্রকল্পের টাকা তাদের ভরসা জুগিয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকারের দেওয়া ট্যাবের টাকায় অনলাইন পড়াশোনাও করতে পেরেছে দুই বোন।
Advertisement
শান্তিপুর ব্লকের বাগআছড়া গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল মল্লিক ও রেখা মল্লিকের তিন কন্যাসন্তানের মধ্যে বড় দু’জন রুমা ও ঝুমা। শৈশব থেকেই তারা বিশেষভাবে সক্ষম। শ্যামলবাবু পেশায় টোটোচালক। দুই মেয়ে ৯০ শতাংশ প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাদের চিকিৎসায় বিপুল টাকা খরচ হয়। এত প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা করা রুমা ও ঝুমার পক্ষে মোটেই সহজ ছিল না। কিন্তু লেখাপড়ার প্রতি দুই বোনের যেমন আগ্রহ রয়েছে, তেমনি মেয়েদের পড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে খুব সচেতন শ্যামলবাবু ও রেখাদেবী। মাধ্যমিকে দুই বোনই দ্বিতীয় ডিভিশনে পাশ করেছে। সোমবার থেকে তারা উচ্চমাধ্যমিক দিচ্ছে। 
রুমা-ঝুমার সেন্টার পড়েছে শান্তিপুর মিউনিসিপ্যাল উচ্চবিদ্যালয়ে। এদিন টোটোয় চেপে দুই বোনকে নিয়ে রেখাদেবী সেন্টারে পৌঁছন। পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে দুই মেয়েকে আদর করে মনে করিয়ে দেন, ‘ভালো করে পরীক্ষা দিবি’। দুই মেয়ের পড়াশোনার ইচ্ছে পূরণ করতে তাঁকেও কম লড়াই করতে হয়নি। শ্যামলবাবু বলেন, ওরা লেখাপড়া শিখতে চায়। বাবা হয়ে আমার ওদের সেই ইচ্ছে পূরণের চেষ্টা করা উচিত। আমার আয় সীমিত। তবে দুই মেয়ে কন্যাশ্রীর ২৫হাজার করে টাকা পেয়েছে। সেই টাকা ওদের লেখাপড়ার কাজে লাগানো হয়েছে। প্রতি মাসে ওরা হাজার টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা পায়। তাতেও কিছুটা সুরাহা হয়। বছরখানেক আগে রাজ্য সরকারের ট্যাবের টাকায় ওদের মোবাইল কিনে দিয়েছি। এখন অনলাইনেও ওরা পড়াশোনা করে। সংসারে অনটন আছে। তবে সরকারি প্রকল্পের কারণে দুই মেয়েকে শিক্ষিতা করে তুলতে লড়াইয়ের সাহস পাচ্ছি। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করছি, ওরা দু’জনই ভালোভাবে পরীক্ষায় পাস করুক। এরপর ওরা উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে চাইলে আমি আরও পড়াতে রাজি আছি। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ