নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ‘রাস দেখতে যাচ্ছি’ বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরা হল না যুবকের। বাড়ি থেকে ঢের দূরে এক আমবাগানে উদ্ধার হল তাঁর দেহ। চাঞ্চল্যকর এই রহস্যমৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় এলাকার দুর্গাপুর আমবাগানে। যদিও মৃত যুবক শান্তিপুরের বাসিন্দা। রবিবার সকালে দেহ উদ্ধার হওয়ার পরেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। পরে সেটিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। কীভাবে মৃত্যু? কারণ খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। যদিও সন্তানশোকে কাতর মায়ের দাবি, খুন করা হয়েছে তাঁর ছেলেকে।
Advertisement
পুলিস এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম হৃত্বিক মুন্সি (২৪)। শান্তিপুরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বেরপাড়ার বাসিন্দা তিনি। যদিও কর্মসূত্রে তিনি থাকতেন কলকাতায়। একটি নামী রেস্তরাঁয় কাজ করতেন। সপ্তাহান্তে বাড়ি আসতেন। একইভাবে শনিবার বাড়ি এসেছিলেন হৃত্বিক। এরপর সন্ধ্যায় শান্তিপুরের রামনগরপাড়ার সৌরভ নামে এক বন্ধুর সঙ্গে রাস দেখতে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেও বাড়ি ফেরেননি তিনি। পরিবারের দাবি, এরপর রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ সৌরভ ফোন করে হৃত্বিকের বাড়িতে জানায়, তিনি নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অজ্ঞান হয়ে রয়েছেন। এর প্রত্যুত্তরে বাড়ির লোকজন বারবার কোথায় ঘটনাটা ঘটেছে জানতে চাইলেও স্পষ্ট করে কিছুই বলেনি সৌরভ। শেষমেশ দুর্গাপুর বলে সে ফোন কেটে দেয়। এরপর রবিবার সকালে সৌরভের মা এসে হৃত্বিকের বাইকের চাবি এবং মোবাইল দিয়ে যায়। কিন্তু হৃত্বিক কোথায়? উত্তর দিতে পারেননি সৌরভের মা-ও। এরপর খোঁজাখুঁজি শুরু হতেই শান্তিপুর থেকে অনেকটা দূরে কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানা এলাকার দুর্গাপুরের একটি আমবাগান থেকে দেহ উদ্ধার হয় ওই যুবকের। মুখ দিয়ে সাদা গ্যাঁজলা বেরিয়ে গিয়েছিল তার। পুলিস দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর মৃত দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় কোতোয়ালি থানার পুলিস। যদিও মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনই স্পষ্ট কিছু জানাননি তদন্তকারীরা। মৃতের পরিবারের দাবি, পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে হৃত্বিককে। সরাসরি তাদের অভিযোগের তির সৌরভের দিকেই। পুত্রশোকে পাথর মা সরাসরি বলেন, সৌরভ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করেছে তাঁর ছেলেকে। তিনি চান ঘটনার তদন্ত হোক। সৌরভের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক পুলিস। যদিও এই ঘটনার পর থেকেই পলাতক সৌরভ। বিষয়টি নিয়ে পুলিসের এক কর্তা বলেন, আমরা খুনের লিখিত কোনও অভিযোগ পাইনি। তবে মৃত্যুর কারণ জানতে আমরা তদন্ত করছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তদন্তে সবদিক খতিয়ে দেখা হবে।-নিজস্ব চিত্র



