সংবাদদাতা, বোলপুর ও রামপুরহাট: বুধবার দুপুরে শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি খোয়াইয়ের হাট সংলগ্ন রাস্তায় বেপরোয়া ট্রাক্টরের ধাক্কায় এক ছাত্রীর মৃত্যু হল। মৃতার নাম স্নেহা চৌধুরী(২০)। তিনি বোলপুর কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তাঁর বান্ধবীও জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরই বেগতিক বুঝে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় ট্রাক্টরের চালক। ঘাতক ট্রাক্টরটি আটক করেছে পুলিস। অপর ঘটনায় বেপরোয়া লরির ধাক্কায় মঙ্গলবার রাত ৮টা নাগাদ ১৪নম্বর জাতীয় সড়কের মহম্মদবাজার থানার দিঘলগ্রামের কালীতলার কাছে সম্পর্কিত দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদের নাম তাইমুদ্দিন শেখ(৩৬) ও তাঁর মামার ছেলে আরমান শেখ(২০)। দু’জনেরই বাড়ি মহম্মদবাজার থানার সোঁতশাল গ্রামে।
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রীর বাড়ি বোলপুর পুরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের মিশন কম্পাউন্ড এলাকায়। পুজোর ছুটিতে পেশায় ব্যবসায়ী স্নেহার বাবা চঞ্চল চৌধুরী ও মা মুনমুন চৌধুরী বৃন্দাবন বেড়াতে গিয়েছেন। এদিন দুপুরে এক বান্ধবীর সঙ্গে স্কুটিতে সোনাঝুরি হাটের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। শালবন সংলগ্ন খোয়াইয়ের রাস্তায় উল্টোদিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা অবৈধ বালি ও রাবিশবোঝাই ট্রাক্টরটি সরাসরি স্কুটিতে ধাক্কা মারে। স্নেহা ও তাঁর বান্ধবী ছিটকে পড়েন। ওইসময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন নানুরের বিধায়ক বিধান মাজি। তিনি তড়িঘড়ি গুরুতর জখম দুই ছাত্রীকে তাঁর গাড়িতে চাপিয়ে মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু স্নেহাকে বাঁচানো যায়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর বান্ধবীর চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনায় পুলিসের ভূমিকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কারণ, হাটের রাস্তাতেই রয়েছে পুলিসের ক্যাম্প। তা সত্ত্বেও কীভাবে ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। পুলিস জানিয়েছে, ওই রাস্তায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। মহম্মদবাজারে দুর্ঘটনায় মৃত তাইমুদ্দিন পেশায় পাথর ব্যবসায়ী। আরমান বাবার পাথরের ব্যবসা দেখভাল করতেন। ওইদিন রাতে বাইকে চেপে তাঁরা গণপুর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। দিঘলগ্রামের কালীতলার কাছে বালিবোঝাই লরির সঙ্গে বাইকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিস পৌঁছে দু’জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যালে নিয়ে এসে ভর্তি করে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানেই মৃত্যু হয় তাইমুদ্দিনের। ভোররাতে মৃত্যু হয় আরমানের। মৃতদের আত্মীয় জামিরুল শেখ ও এলাকার বাসিন্দা ইমদাদদুল হোসেন বলেন, জাতীয় সড়কের ওই অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। তার উপর সড়কের ধারে বালি, পাথর মজুত করে রাখা হয়েছে। তাতেই একের পর দুর্ঘটনা ঘটছে। পুলিস জানিয়েছে, ঘাতক লরিটি আটক করা হয়েছে। চালক পলাতক।



