Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শুনানি না করেই বিতর্কিত জমি রেকর্ড,  দালালরাজের অভিযোগ

শুনানি না করেই বিতর্কিত জমি রেকর্ড,  দালালরাজের অভিযোগ
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: ভরতপুর-১ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে অভিযোগ জমা করেও কাজ হয়নি। শুনানি না করেই বিতর্কিত জমির রেকর্ড হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। সোমবার এনিয়ে ঝিকড়া গ্রামের একটি পরিবারের লোকজন ওই দপ্তরের অফিসের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা দালালরাজের অভিযোগ তোলেন। ভরতপুর-১ বিএলএলআরও আনন্দমোহন মাইতি বলেন, বিষয়টি একটু মিসটেক হয়েছে। দ্রুত এর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভরতপুর-১ বিডিও অফিস চত্বরের মধ্যেই রয়েছে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অফিস। এমন একটি জায়গায় বারবার দালালরাজের অভিযোগ উঠছে। ইতিপূর্বে দালালরাজের বিরুদ্ধে বাসিন্দারা অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। এদিনও ফের এমনই অভিযোগ উঠতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। জানা গিয়েছে, ঝিকড়া গ্রামের ৭৮৫ নম্বর দাগের প্রায় ২২ কাঠা কৃষিজমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। এমনকী জমির মালিকানা নিয়ে আদালতেও মামলা চলেছে। গত ২৮ অক্টোবর ভরতপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে ওই জমি বিক্রি করে দেওয়া হয়। গ্রামের মাফুজা খাতুন সুজন শেখকে জমিটি বিক্রি করেন। গত ৬ নভেম্বর জমিটির অপর দাবিদাররা রেকর্ড না করার জন্য বিএলএলআরও অফিসে অভিযোগ জমা করেন। অভিযোগ জমা করার পরেও কোনও শুনানি না হয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই জমির রেকর্ড বের করে নেওয়া হয় বলে দাবি। গত শনিবার ওই জমির দখল নিয়ে গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তাতে তিনজন জখম হন। তাঁদের মধ্যে দু’জন এখনও কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় রবিবার পুলিস একজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। অভিযোগকারী পরিবারের কনিজ মওলা বলেন, এই অফিসে দালালরাজ চলছে। আমরা দুঃস্থ পরিবার বলে জোর করে জমির দখল নিতে চাইছে ওরা। অথচ প্রায় ৫০ বছর ধরে এই জমির রেকর্ড ও দখল আমাদের রয়েছে। দালালরা কোনও শুনানি না করিয়ে জমির রেকর্ড বের করে দিয়েছে। বিএলএলআরওর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও ফিরে এলাম।
Advertisement
সানোয়ার হোসেন বলেন, জমির বিষয়টি নিয়ে সোমবারও অফিসে জানাতে গিয়ে কোনও বিচার পেলাম না। অফিসাররা কোনও কথাই শুনতে চাইছেন না। আসলে এই অফিস দালালে ভরে গিয়েছে। কোনও কাগজ ছাড়া শুধু টাকা দিলেই রেকর্ড বের হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ক্ষেত্রেও এটাই হয়েছে। অপর পক্ষের আনোয়ার হোসেন বলেন, কোনওরকম দু’নম্বরি হয়নি। ওদের প্রভাবশালী লোক রয়েছে। সেইজন্য আমাদের এরকম হয়রান করছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ