Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্মশানকর্মীদের বাড়তি টাকার দাবিতে অতিষ্ঠ

শ্মশানকর্মীদের বাড়তি টাকার দাবিতে অতিষ্ঠ
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বহরমপুর: শবদাহ করাতে গেলে মৃতের পরিবারকে বাড়তি টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন শ্মশানকর্মীরা। তাঁদের দাবি না মেটালে চিতাভষ্ম দেওয়া নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। দর কষাকষি করে শ্মশানকর্মীদের টাকা দেওয়ার পরই মিলছে চিতাভষ্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র। 
Advertisement
প্রায় রোজ এমনই অভিযোগ উঠছে বহরমপুরের দুই শ্মশানঘাটে। কখনও কখনও শ্মশানকর্মীদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক থেকে উত্তেজনাও ছড়াচ্ছে। শ্মশানকর্মীদের গা জোয়ারি মনোভাবে অতিষ্ঠ মৃতের আত্মীয় পরিজনরা। বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, দাহ করার খরচ বাদে কোনও টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। তবে এ বিষয়ে আমাদের কাছে নির্দিষ্ট করে কেউ লিখিত অভিযোগ এখনও করেননি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত করতে অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হতো। ১০-১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হতো। বর্তমান সংবাদপত্রের খবরে জেরে তা বন্ধ হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিত নির্দেশিকা জারি করে এই অবৈধ কারবার বন্ধ করেছে। মর্গের সামনে নোটিস ঝুলনোয় আপাতত ময়নাতদন্তের জন্য টাকা নেওয়া বন্ধ। 
অভিযোগ, শ্মশানকর্মীরা মৃতের বাড়ির লোকেদের কাছে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। এরপর শুরু হয় দরাদরি। কমপক্ষে তিনশো টাকা না দিলে চিতাভষ্ম দেওয়া হয় না। ভিন জেলার মৃতদেহ হলে টাকার অঙ্ক আরও বেড়ে যায়। মেলে না মৃত্যুর শংসাপত্রও। বহরমপুর শহরে গোরাবাজার ও খাগড়া দুই শ্মশানে গড়ে রোজ অন্তত ২০-২৫টি মৃতদেহ দাহ করা হয়। সিংহভাগ পরিবারের একই অভিযোগ।
গোরাবাজার শ্মশানে বাবার শবদাহ করতে এসেছিলেন বড়ঞা ব্লকের বাসিন্দা তমালকান্তি ঘোষ। তমালবাবু বলেন, বৈদ্যুতিক চুল্লিতে শবদাহের জন্য ১২৫০ টাকা দিয়ে বৈধ রসিদ নিয়েছি। এরপর চিতাভষ্ম নিতে গেলে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দাবি করা হয়। অনেক তর্কবিতর্কের পর চারশো টাকায় রফা করি। এটা কার্যত জুলুমবাজি। এর বিহিত হওয়া দরকার। ইসলামপুরের বাসিন্দা মনোজ সরকার বলেন, সর্পাঘাতে মৃত্যু হয়েছে বছর পনেরোর কিশোরের। বাড়িতে শোকের ছায়া। কান্নার রোল দেখেও শ্মশানকর্মীদের মন গলেনি। দুশো টাকা দিতে হল। গোরাবাজারের এক শ্মশানকর্মী বলেন, আমরা অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করি। সামান্য বেতন পাই। যে কেউ অভিযোগ করতে পারে। আমরা পরোয়া করি না।
সম্পর্কিত সংবাদ