Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শালপাতার থালার চাহিদা বাড়লেও আজও ভালো পারিশ্রমিক মেলে না

শালপাতার থালার চাহিদা বাড়লেও আজও ভালো পারিশ্রমিক মেলে না
  • ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মানকর: বিয়ের মরসুমে চাহিদা বেড়েছে শালপাতার। তাই শালপাতা যোগান দিতে নাওয়া খাওয়া ভুলেছেন কাঁকসার তেলিপাড়া, কাঁথালডাঙা, ধোবারু, পিয়ারিগঞ্জ সহ একাধিক গ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মহিলারা। বন থেকে শালপাতা সংগ্রহ করে, সেই পাতা সেলাই করে চলেছেন তাঁরা। যদিও তাঁদের আক্ষেপ পাতা সংগ্রহ করে সেলাই করতে যে পরিশ্রম হয় সেই অনুপাতে মজুরি মেলে না। 
Advertisement
কাঁকসা ব্লক জঙ্গলমহল এলাকা বলেই পরিচিত। ব্লকের বেশিরভাগ আদিবাসী গ্রামেই প্রায় প্রতিটি পরিবার শালপাতার কাজে যুক্ত। কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লকে মোট আদিবাসী গ্রামের সংখ্যা প্রায় ৭৫টি। আদিবাসী মহিলারা জানান, তাঁরা জঙ্গল থেকে পাতা সংগ্রহ করেন। সকাল থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত চলে পাতা সংগ্রহ। বাড়ি ফিরে কুচিকাঠি দিয়ে পাতা সেলাই শুরু হয়। একটি পাতা সেলাই করতে প্রয়োজন হয় দুটি কুচি কাঠির। ব্লকের বাসিন্দা লক্ষ্মী মুর্মু, সুন্দরী মুর্মুরা বলেন, সারা বছর পাতার বাজার সেভাবে থাকে না। তবে বিয়ে বা উৎসবের সময়ে পাতার চাহিদা বেড়ে যায়। আমরা এখন বন থেকে পাতা এনে দুপুরে খাবার খেয়েই সেলাই শুরু করছি। না হলে সময়ে শেষ করতে পারব না। পাতা সেলাইয়ের পর রোদ দিতে হয়। আমরা খোলা মাঠে বা গ্রামের ঢালাই রাস্তার উপরেই রোদ দিই। তবে বৃষ্টি হলে খুবই সমস্যা হয়। তাঁরা জানান, এক হাজার পিস পাতার দাম কখনও ১৫০ টাকা কখনও ২০০ টাকা। বিয়ে বা পুজো এলে দাম কিছুটা বাড়ে। তবে তা খুবই অল্প সময়ের জন্য। পিউ হাঁসদা বলেন, প্লাস্টিক ও থার্মোকল পাতার চাহিদার জন্য শালপাতার বিক্রি একেবারেই কমে গিয়েছিল। এখন আবার বিক্রি বেড়েছে। ঘুরে দাঁড়িয়েছে শালপাতা শিল্প। স্থানীয় বাসিন্দা সূর্য মুর্মু বলেন, পাতা ঘরে জমিয়ে রাখলে শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। মজুত করা যায় না বলেই কম দামে মহাজনদের বাধ্য হয়ে পাতা বিক্রি করতে হয়। প্রশাসন থেকে পাতা মজুত করার ব্যবস্থা করলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলের সুবিধা হবে। 
শালপাতার ক্রেতাদের একাংশের বক্তব্য, হাতের বদলে মেশিনের সাহায্য নিলে পাতার গুণগত মান অনেকটাই বেড়ে যাবে। কিন্তু ব্লকের ধোবারু গ্রামে দেখা গেল অব্যবহারে ফলে বেশ কয়েকটি পাতা সেলাই করার মেশিন প্রায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে হাতে ঘোরানো ও ইলেক্ট্রনিক্সের মেশিনও রয়েছে। এই মেশিনগুলি ব্যবহার না করার মূলত দুটি কারন জানা গেল। প্রথমত মেশিনের সেলাই উন্নত মানের হত না বলে মহাজনরা নিতে চাইত না। দ্বিতীয়ত ইলেক্ট্রনিক্সের মেশিন চালালে বিদ্যুৎ বিল আসবে। পাতা বেচে ওই টাকা আয় হবে না। ব্লকের সুঁদিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক সমীরণ লাহা বলেন, থার্মোকল পরিবেশ দূষণ করে। শালপাতার থালা তা করে না। এটি পচনশীল। শালপাতার থালা ব্যবহার করলে আদিবাসী মহিলাদের হাতেও কিছুটা অর্থ আসবে। ধান বিক্রিতে রাজ্য সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করেছে। তেমনই শালপাতাতেও মূল্য নির্ধারণ করলে পরিশ্রমের উপযুক্ত দাম পাবেন আদিবাসী মহিলারা।
সম্পর্কিত সংবাদ