নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সরকারি জমি দখল, পুকুর ভরাট করে বহুতল নির্মাণ নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার প্রশাসনের ভিতরে থাকা ঘুঘুর বাসা ভাঙতে তৎপর তিনি। বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন, খাসজমি অন্যের নামে মিউটেশন হল কী করে? পুরসভা এলাকায় সেই নির্মাণের অনুমতি কে দিল? তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাঁর আমলে যার হাতে ধরে এই কাজ হয়েছে তিনি ছাড়া পাবেন না। তিনি অবসর নিলেও মাফ করা হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী জানানোয় ঘুম উবেছে শিল্পাঞ্চলের বহু কর্মী-আধিকারিকের। মুখ্যমন্ত্রীর ধমকের পর পুলিসের পক্ষ থেকে কিছুটা তৎপরতা শুরু হলেও ফের শিথিল হয়ে গিয়েছিল। যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাও শুরু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী যে বিষয়টি নজরে রেখেছেন এদিন তা ফের স্পষ্ট হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সরকারি আমলা, কর্মীদের ক্ষেত্রে আপনারা এক-একজনের জন্য এক একরকম ব্যবস্থা নেন। এটা হবে না, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
Advertisement
গত নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বিচারে খাসজমি দখল, পুকুর ভরাট নিয়ে প্রশাসনকে তিরস্কার করেন মুখ্যমন্ত্রী। নাম না করলেও তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর লক্ষ্য শিল্পাঞ্চল। তারপরই বারাবনি থানার ওসিকে সাসপেন্ড ও কাঁকসা থানার আইসিকে কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে পাঠানো হয়। তিন জমি কারবারিকে গ্রেপ্তারও করে আসানসোল উত্তর থানার পুলিস। পুলিস ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে সরেজমিনে তদন্তও করে আসানসোল পুরসভা। সেখানে দেখা যায়, জ্যোতিনগর এলাকাতেই তিনটি পুকুর ভরাট করে বিশাল ইমারত গড়ে উঠেছে। ফরচুন পার্কেরও দু’টি পুকুর ভরাটের অভিযোগ রয়েছে। কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ না হওয়ায় শিল্পাঞ্চলবাসী প্রশ্ন তুলেছিল। যাঁরা বাহুবলের জোরে এই জমি দখল করল তাদের বিরুদ্ধে তো কোনও পদক্ষেপ হল না? খাসজমিতে বাড়ি তৈরির প্ল্যান অনুমোদনই কীভাবে হল? পুরসভার প্ল্যান অনুমোদন বিভাগের বিরুদ্ধে কবে পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। মানুষের মনের কথা বুঝেই যেন এদিন মুখ্যমন্ত্রী এবার প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার বার্তা দিলেন। এতেই আসানসোল দুর্গাপুরে ভূমি রাজস্ব দপ্তর ও বহু পুর কর্মী-আধিকারিকের রক্তচাপ বেড়েছে। নির্বিচারে জমি দখলের অভিযোগেও কানে তুলো দিয়ে থাকা আধিকারিকরাও কি প্রশাসনিক কোপে পড়বেন? সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে শিল্পাঞ্চলবাসী। দুর্গাপুর পুরসভার কমিশনার একে আজাদ বলেন, পুরনো অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হবে।



