নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোলের জুবলি মোড় লাগোয়া আস্ত একটা টাউনশিপ! সরকারি জমি দখল, জলাশয় বুজিয়ে গড়ে উঠছে সেটি। এমনটাই অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী। কিন্তু কে শোনে কার কথা! এবার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি। তাতেই থরহরিকম্প প্রশাসনে। হুঁশ ফিরেছে পুলিসের। শুরু হয়েছে ধরপাকড়। একে একে জালে উঠছে জমি লুটেরা। রেয়াত করা হচ্ছে না কাউকেই। সে যত বড়ই প্রভাবশালী হোক না কেন! স্বভাবতই স্থানীয় মানুষের প্রশ্ন—কেন এতদিন সবাই সবকিছু জেনেও চোখ বুজে ছিলেন?
Advertisement
শনিবার আসানসোলের প্রভাবশালী রিয়েল এস্টেট কারবারি উইলসনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার আরও এক জমি মাফিয়াকে জালে তুলল তারা। তাঁর নাম দীনেশ গরাই। সর্বক্ষণ থাকতেন বাউন্সারদের ঘেরাটোপে। তা সত্ত্বেও শিল্পাঞ্চলে জমি দখলকে ঘিরে দীনেশের প্রাণ সংশয় দেখা দিয়েছিল। তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছিল শিল্পাঞ্চলের আরও এক প্রভাবশালী জয়দেব মণ্ডলের বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে পলাশডিহা মৌজায় ওই টাউনশিপটি গড়ে তোলা হচ্ছে। যেখানে নির্বিচারে পুকুর ভরাট, সরকারি জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। তারই তদন্তে নেমে পুলিস একের পর এক প্রভাবশালীকে নিজেদের হেফাজতে নিচ্ছে। ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারের পুকুর ভরাট করার অভিযোগের ভিত্তিতেই আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আসানসোল শহরের অন্যতম প্রবেশদ্বার জুবলি মোড়। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের সেই মোড়ের ঠিক আগেই ধানবাদ অভিমুখে যাওয়া লেনের পাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে নির্মাণ। অল্প সময়ের মধ্যে এলাকাটি টাউনশিপের চেহারা নয়। সেই টাউনশিপের একটা নামকরণ করে এক কাঠা জমির মূল্য হাঁকাচ্ছে ২০-৩০ লক্ষ টাকা। অভিযোগ, পশালডিহা মৌজার অন্তর্গত ওই জায়গায় থাকা একাধিক পুকুর, সরকারি জমি দখল করে এই কারবার করছে শিল্পাঞ্চলের অতি প্রভাবশালী জমি কারবারিরা। দিনে দুপুরে এই কাণ্ড ঘটলেও পুলিস প্রশাসনের নজর পড়েনি এতদিন। একাধিক অভিযোগেও হুঁশ ফেরেনি কারও। ‘বর্তমান’ পত্রিকাতে বিষয়টি নিয়ে একাধিক খবর হয়। তার জেরে পুরসভা পুকুর ভরাটের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে। ১৪ আগস্ট পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার আসানসোল উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তিন মাস পর পুলিস অবশেষে সেই মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার করে উইলসনকে। শনিবার তাঁকে ঘিরে রাখা বাউন্সাররা হাজির হয়েছিল আসানসোল আদালত চত্বরেও। এদিন ওই একই মামলায় গ্রেপ্তার হন দীনেশ। তাঁকেও এদিন আসানসোল আদালতে তোলা হয়। পর পর দু’জন প্রভাবশালী গ্রেপ্তার হতেই নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে শিল্পাঞ্চলে।
জানা গিয়েছে, দীনেশ শিল্পাঞ্চলের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের অন্যতম। জমি কারবার নিয়ে দুই প্রভাবশালী জয়দেব ও দীনেশের বিবাদ সর্বজন বিদিত। দীনেশকে লক্ষ্য করে একবার গুলিও চালায় জয়দেবের টিম। ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি। জয়দেবকে গ্রেপ্তারও করা হয়। জমি কারবার নিয়ে শিল্পাঞ্চল উত্তপ্ত হওয়ার সেই সূত্রপাত। অভিযোগ, প্রভাবশালীদের যোগ থাকায় শিল্পাঞ্চলে জমির নথি রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে যায়। রাতারাতি পুকুর বদলে যায় সমতলে। এদিন দীনেশকে আদালতে তুলতেই তাঁর একঝাঁক অনুগামী হাজির হয় আদালত চত্বরে। লকআপের আশপাশে উকি ঝুঁকি মারতে থাকে তারা। সুযোগ বুঝেই দামি খাবার বসের জন্য পাঠানোর চেষ্টাও করা হয়। বসের জামিন করাতে সাগরেদদের একাংশ আইনজীবীর পিছুও নিল। রবিবার ছুটি দিন বলে বিচারকের কক্ষেই শুনানি হয়। দীনেশের লোকজন বিচারকের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাদের নিরাশ হতে হয়। বিচারক দীনেশকে ছ’দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। বাধ্য হয়ে চেনা কিছু পুলিসকর্মীর কাছে সাগরেদদের আর্জি—‘দাদাকে আর পাঁচটা কয়েদির সঙ্গে রাখবেন না।’
আসানসোল শহরের অন্যতম প্রবেশদ্বার জুবলি মোড়। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের সেই মোড়ের ঠিক আগেই ধানবাদ অভিমুখে যাওয়া লেনের পাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে নির্মাণ। অল্প সময়ের মধ্যে এলাকাটি টাউনশিপের চেহারা নয়। সেই টাউনশিপের একটা নামকরণ করে এক কাঠা জমির মূল্য হাঁকাচ্ছে ২০-৩০ লক্ষ টাকা। অভিযোগ, পশালডিহা মৌজার অন্তর্গত ওই জায়গায় থাকা একাধিক পুকুর, সরকারি জমি দখল করে এই কারবার করছে শিল্পাঞ্চলের অতি প্রভাবশালী জমি কারবারিরা। দিনে দুপুরে এই কাণ্ড ঘটলেও পুলিস প্রশাসনের নজর পড়েনি এতদিন। একাধিক অভিযোগেও হুঁশ ফেরেনি কারও। ‘বর্তমান’ পত্রিকাতে বিষয়টি নিয়ে একাধিক খবর হয়। তার জেরে পুরসভা পুকুর ভরাটের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে। ১৪ আগস্ট পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার আসানসোল উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তিন মাস পর পুলিস অবশেষে সেই মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার করে উইলসনকে। শনিবার তাঁকে ঘিরে রাখা বাউন্সাররা হাজির হয়েছিল আসানসোল আদালত চত্বরেও। এদিন ওই একই মামলায় গ্রেপ্তার হন দীনেশ। তাঁকেও এদিন আসানসোল আদালতে তোলা হয়। পর পর দু’জন প্রভাবশালী গ্রেপ্তার হতেই নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে শিল্পাঞ্চলে।
জানা গিয়েছে, দীনেশ শিল্পাঞ্চলের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের অন্যতম। জমি কারবার নিয়ে দুই প্রভাবশালী জয়দেব ও দীনেশের বিবাদ সর্বজন বিদিত। দীনেশকে লক্ষ্য করে একবার গুলিও চালায় জয়দেবের টিম। ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি। জয়দেবকে গ্রেপ্তারও করা হয়। জমি কারবার নিয়ে শিল্পাঞ্চল উত্তপ্ত হওয়ার সেই সূত্রপাত। অভিযোগ, প্রভাবশালীদের যোগ থাকায় শিল্পাঞ্চলে জমির নথি রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে যায়। রাতারাতি পুকুর বদলে যায় সমতলে। এদিন দীনেশকে আদালতে তুলতেই তাঁর একঝাঁক অনুগামী হাজির হয় আদালত চত্বরে। লকআপের আশপাশে উকি ঝুঁকি মারতে থাকে তারা। সুযোগ বুঝেই দামি খাবার বসের জন্য পাঠানোর চেষ্টাও করা হয়। বসের জামিন করাতে সাগরেদদের একাংশ আইনজীবীর পিছুও নিল। রবিবার ছুটি দিন বলে বিচারকের কক্ষেই শুনানি হয়। দীনেশের লোকজন বিচারকের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাদের নিরাশ হতে হয়। বিচারক দীনেশকে ছ’দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। বাধ্য হয়ে চেনা কিছু পুলিসকর্মীর কাছে সাগরেদদের আর্জি—‘দাদাকে আর পাঁচটা কয়েদির সঙ্গে রাখবেন না।’



