নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে পরিত্যক্ত কোয়ার্টার নিয়ে টনক নড়ল রেল কর্তৃপক্ষের। এবার তারা সংশ্লিষ্ট কোয়ার্টারগুলি সংস্কার করবে। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি পুরসভার সঙ্গে বৈঠকের পর একথা জানান উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহারের এডিআরএম অজয় সিং। অন্যদিকে, শহরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে সীমানা প্রাচীর দেওয়া নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধতেই পুরসভার সঙ্গে যৌথ সমীক্ষা করবে রেল। আজ, শুক্রবার তারা যৌথভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করবে। এদিন পুরসভা ও রেলের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
Advertisement
শিলিগুড়ি শহরে রেলের অসংখ্য কোয়ার্টার ছড়িয়ে রয়েছে। যার মধ্যে একাংশ পরিত্যক্ত। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় থাকায় সেগুলিতে রেলের কোনও কর্মী বসবাস করছেন না। সেগুলির বিবর্ণ দেওয়াল ও ছাদ নড়বড়ে। কোনওটির দেওয়াল ও ছাদে গজিয়ে উঠেছে আগাছা। বিপজ্জনক সেই আবাসনগুলি যে কোনওদিন ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সেগুলির একাংশে মদ, জুয়া ও মাদকাসক্তদের ঠেক বসছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়ে পুর কর্তৃপক্ষও পরিত্যক্ত কোয়ার্টারগুলি নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছে। এদিন রেলের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি তোলা হয়। বৈঠকের পর এডিআরএম বলেন, পরিত্যক্ত কোয়ার্টারগুলি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই সমীক্ষা করে সেগুলি সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হবে। এজন্য কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ বরাদ্দ করেছে। এদিকে, শিলিগুড়ি শহরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা দখল করে রেল কর্তৃপক্ষ সীমানা প্রাচীর দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিন পুরসভা ও রেলের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট এলাকায় যৌথ সমীক্ষা চালানো হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এডিআরএম বলেন, রেলের কিছু কোয়ার্টার রয়েছে। সেখানকার আবাসিকরা নিরাপত্তার দাবি তোলায় সেখানে সীমানা প্রাচীর দেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তিতে তা স্থগিত রয়েছে। এব্যাপারে পুরসভার সঙ্গে যৌথ সমীক্ষা করে সমস্যা মেটানো হবে। মেয়র গৌতম দেব বলেন, টক-টু মেয়র কর্মসূচিতে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ করেছেন রেলের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। এদিন রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছি। রেলের সঙ্গে যৌথ সমীক্ষার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



