Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলিগুড়িতে ফের এক চিকিৎসকের পদত্যাগ, ডাক্তারের অভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি সঙ্কটে

শিলিগুড়িতে ফের এক চিকিৎসকের পদত্যাগ, ডাক্তারের অভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি সঙ্কটে
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ফের চাকরি ছাড়ছেন এক চিকিৎসক। এনিয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শিলিগুড়ি পুরসভার চাকরি ছেড়েছেন প্রায় ১০ জন চিকিৎসক। ফলে পুরসভার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি কার্যত সঙ্কটে। ইতিমধ্যে একটি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শহরের বিভিন্ন মহল এনিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ। এর মোকাবিলায় উদ্যোগী পুরকর্তৃপক্ষ। তারা নতুন করে আরও একগুচ্ছ চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। 
Advertisement
শিলিগুড়ি পুরসভার ক্ষমতা দখল করেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেন মেয়র গৌতম দেব। ইতিমধ্যে তাঁর উদ্যোগে শহরে প্রায় ১৪টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। রাজ্য ও জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেগুলিতে চিকিৎসকও নিয়োগ করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা এখানে থাকতে চাইছেন না। পুরসভা সূত্রের খবর, মঙ্গলবার স্বাস্থ্যবিভাগের এক চিকিৎসক পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। এনিয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ১০ জন চিকিৎসক চাকরি ছেড়েছেন। ইতিমধ্যে তাঁরা অন্যত্র কাজে যোগ দিয়েছেন। 
পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য দুলাল দত্ত বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে এখানে মাঝেমধ্যেই চিকিৎসক নিয়োগ করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা কিছুদিন কাজও করছেন। কিন্তু এর থেকে ভালো সুযোগ পেয়ে তাঁরা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। কাজেই এখান থেকে চিকিৎসকদের চলে যাওয়ার পিছনে অন্য কোনও কারণ নেই। তা হলেও এই সমস্যা মেটানোর চিন্তাভাবনা চলছে। 
এদিকে, শহরের ডন বস্কো রোডে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ একটি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ২০২৩ সালের ২২ মে সেটির উদ্বোধন করেন মেয়র। ওই অনুষ্ঠানে পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য সহ আধিকারিকরা হাজির ছিলেন। ভবনটি দোতলা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধনের কয়েক মাস পর থেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ঝাঁপ বন্ধ। যারফলে চিকিৎসার জন্য স্থানীয়দের ছুটতে হচ্ছে অন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সংশ্লিষ্ট এলাকা শহরের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয় কাউন্সিলার তৃণমূলের শোভা সুব্বা বলেন, চিকিৎসকের অভাবে বন্ধ রয়েছে। পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। 
শহরের অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিও চিকিৎসকের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ। পুরসভা সূত্রে খবর, শহরে একটি মাতৃসদন, ১০টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১৩টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। এজন্য কম করে ২৫ জনের বেশি চিকিৎসক দরকার। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসক মাত্র ১৮ জন। অনেক চিকিৎসক যোগ দেওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। আবার অনেকে নিয়োগপত্র পেয়েও যোগ দিচ্ছেন না। এজন্যই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যবিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য অবশ্য বলেন, একটি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র ছাড়া কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ নেই। শীঘ্রই আরও ১০-১২ জন চিকিৎসক নিয়োগ করা হবে। এর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ