Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলিগুড়িতে জলস্বপ্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন, ৫০ শতাংশ বাড়ি জলহীন

শিলিগুড়িতে জলস্বপ্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন, ৫০ শতাংশ বাড়ি জলহীন
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: জমিজট। সঙ্গে ঠিকাদার সংস্থার ঢিলেমি। যার জেরে শিলিগুড়িতে জলস্বপ্ন বা জল জীবন মিশন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অভিযোগ, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলেও গ্রামীণ এলাকায় প্রায় ৫০ শতাংশেরও বেশি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার এনিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করে আধিকারিকদেরকে প্রকল্পের কাজে গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল। পরে জেলাশাসক অবশ্য বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার সহ আধিকারিকদের প্রকল্পের কাজে আরও জোর দিতে বলা হয়েছে। 
Advertisement
প্রায় চার বছর আগে জলস্বপ্ন প্রকল্পের সূচনা হয়। ওই সময়ই সমীক্ষা চালিয়ে পানীয় জলের সংযোগহীন বাড়ির তালিকা প্রস্তুত করা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বেসলাইন সার্ভে অনুসারে শিলিগুড়ি মহকুমায় পানীয় জলের সংযোগহীন বাড়ির সংখ্যা ১ লক্ষ ৮০ হাজার। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছিল। তা বাড়িয়ে এখন ২০২৫ সালে করা হয়েছে। এই ঘটনায় জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশের নজরদারির অভাবে প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। 
এই অবস্থায় এদিন শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউজে চারটি ব্লকের বিডিও, জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদার সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলাশাসক। সেখানে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে রিপোর্ট পেশ করা হয়। প্রশাসন সূত্রের খবর, মহকুমার গ্রামীণ এলাকায় টার্গেটের মধ্যে জল পৌঁছেছে মাত্র ৮০ হাজার বাড়িতে। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৪৪ শতাংশ। এখনও ১ লক্ষ বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৫৬ শতাংশ। 
জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, পাম্প হাউস, রিজার্ভার বসানোর জন্য বিভিন্ন জায়গায় জমির প্রয়োজন। অনেক জায়গায় জমিজটে প্রকল্পের কাজ করা যায়নি। পাশাপাশি কিছু ঠিকাদার সংস্থার মধ্যেও প্রকল্পের কাজ নিয়ে ঢিলেমির অভিযোগ রয়েছে। তাই প্রকল্পটি শেষ করতে সময় লাগছে। তবে প্রকল্প রূপায়ণের মেয়াদ বাড়িয়ে আরও একবছর করা হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ