Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলিগুড়ির নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন জিবিএস আক্রান্ত শিশুর খোঁজ নিল হু

শিলিগুড়ির নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন জিবিএস আক্রান্ত শিশুর খোঁজ নিল হু
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বিরল স্নায়ু রোগ জিবিএস বা গুলেন বেরি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত শিশুকন্যার নজরদারি শুরু করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু (ডব্লএইচও)। এজন্য বুধবার তাদের এক মেডিক্যাল অফিসার শিলিগুড়ির নার্সিংহোমে গিয়ে আক্রান্তের খোঁজ নেন। পোলিও আছে কি না তা জানাতে আক্রান্তের স্টুল টেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনিয়ে দু’সপ্তাহে কোচবিহার জেলায় জিবিএসে চার শিশু আক্রান্ত বলে সন্দেহ। অবশ্য এই রোগ নিয়ে আমজনতাকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁরা অভিভাবকদেরকে শিশুদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। 
Advertisement
কোচবিহার শহরে ওই শিশুকন্যা বাড়ি। ১৩ জানুয়ারি আচমকা বাচ্চাটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার পায়ের একাংশ অসাড় হয়ে যায়। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়। বর্তমানে শিলিগুড়ি শহরের বর্ধমান রোডের একটি নার্সিংহোমে শিশুটি চিকিৎসাধীন। মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার। এদিন সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমে গিয়ে ওই শিশুর খোঁজ নেন হু’র মেডিক্যাল অফিসার। তিনি নার্সিংহোমের চিকিৎসকের সঙ্গেও কথা বলেন। 
হু সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত কোনও শিশু জিবিএসে আক্রান্ত হলে তাকে সার্ভিলেন্সে রাখা হয়। বিনামূল্যে স্টুল পরীক্ষা করা হয়। আক্রান্তের পোলিও আছে কি না জানার জন্যই এমন টেস্ট। এজন্যই নার্সিংহোমের মাধ্যমে ওই শিশুর স্টুল পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 
নার্সিংহোমের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ গঙ্গাপ্রসাদ সাপকোটা বলেন, ক্লিনিক্যাল ও নার্ভের টাস্টের মাধ্যমে বোঝা গিয়েছে ওই শিশু জিবিএসে আক্রান্ত। শ্বাসকষ্টও শুরু হয়েছিল। এজন্য ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। এখন অবস্থা স্থিতিশীল। ভেন্টিলেশন থেকে বের করা হয়েছে। হাইফ্লো নেজুলা কেনুলা পদ্ধতিতে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। হু’র প্রতিনিধি এসেছিলেন। শিশু পোলিওতে আক্রান্ত ছিল কি না খোঁজ নিয়েছেন। 
মহারাষ্ট্র ও কলকাতার পর উত্তরবঙ্গে প্রথম জিবিএসে আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। এমন বিরল স্নায়ু রোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোড়ন পড়েছে। বর্ধমান রোডের নার্সিংহোমের পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিস্ট ডাঃ জীবন সিভাল অবশ্য বলেন, শুধু ওই শিশুকন্যা নয়, দু’সপ্তাহে জিবিএসের লক্ষণ নিয়ে আরও তিনজন শিশু এসেছিল। তাদের বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। দু’জন কোচবিহার শহরের এবং একজন মাথাভাঙার। ওদের শরীর দুর্বল ছিল। দেহের একাংশ অসাড় হয়ে যাচ্ছিল। বিভিন্ন কারণে ওই রোগ হতে পারে। ভাইরাস কিংবা ব্যাক্টেরিয়া থেকে শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এনিয়ে ভয়ের কিছু নেই। স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছে, বসার পর স্বাভাবিকভাবে উঠতে পারছে না, কিংবা পা ব্যথা করছে, শরীর দুর্বল এমন লক্ষণ থাকলে নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত অভিভাবকের। প্রতিবেশী রাজ্য অসমের চিরাং জেলার জিবিএস আক্রান্ত এক শিশু একমাস এখানে ভর্তি ছিল। সে এখন পুরোপুরি সুস্থ। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ