সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: বাবার ব্যবসা ভালো চলছিল না। তাই সংসারের হাল ধরতে চেয়েছিলেন বছর বাইশের শৌভিক দাস। বুধবার শিলিগুড়িতে নতুন কাজে যোগ দিতে যাওয়ার সময় ময়নাগুড়ির সরস্বতী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল তাঁর। পড়ার ছেলের মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়। মৃত যুবক কোচবিহার জেলার মাথাভাঙার বাসিন্দা ছিলেন।
Advertisement
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শৌভিকের বাবা লটারি বিক্রেতা। সম্প্রতি তিনি ব্যবসায় বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হন। শৌভিক অনুষ্ঠান বাড়িতে ভিডিওগ্রাফির কাজ করতেন। বাজারে বাবার ঋণ হয়ে যাওয়ায় ক্যামেরা বিক্রি করে সেই ঋণ শোধ করেন। তাই সম্প্রতি শুরু করেন নতুন কাজের সন্ধান। শিলিগুড়ির একটি হোটেলে কাজও পান। শিলিগুড়িতে থেকে কাজ করবে বলে বাড়িতে জানান। বুধবার ছিল তাঁর নতুন কাজ যোগ দেওয়ার কথা। সকালে বন্ধু রাহুল সরকারের বাইক চেপে শিলিগুড়ির দিকে মাথাভাঙা থেকে রওনা হন। কিন্তু পথেই হল বিপত্তি। তাঁর আর কাজে যাওয়া হল না।
পুলিস জানিয়েছে, সরস্বতী ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় ঘটে দুর্ঘটনা। জ্বালানি ভরতে বাইক পেট্রোল পাম্পে যখন নিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা সেই সময় ডাম্পার এসে বাইকে ধাক্কা মারে। রক্তাক্ত হন শৌভিক। ডাম্পার চালক ডাম্পার ছেড়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর শৌভিক ও রাহুল রাস্তায় পড়ে যান। গ্রামবাসীরাই তাঁদের দু’জনকে উদ্ধার করে ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক শৌভিককে মৃত বলে জানান। শৌভিকের কাকা সুজন দাস বলেন, ভাইপো বাইকের পিছনে বসেছিল। ওরা দুই বন্ধু শিলিগুড়িতে কাজে যাচ্ছিল। ভাইপো নতুন কাজের খোঁজ পেয়ে সেখানে যাচ্ছিল। রাস্তায় এমন ঘটনা ঘটে যাবে, মানতেই পারছি না। বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে ভেঙে পড়েছে। ময়নাগুড়ি থানার পুলিস জানিয়েছে, ঘাতক ডাম্পারটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। চালকের খোঁজ চলছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।পুলিস জানিয়েছে, সরস্বতী ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় ঘটে দুর্ঘটনা। জ্বালানি ভরতে বাইক পেট্রোল পাম্পে যখন নিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা সেই সময় ডাম্পার এসে বাইকে ধাক্কা মারে। রক্তাক্ত হন শৌভিক। ডাম্পার চালক ডাম্পার ছেড়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
ঘাতক ডাম্পার। - নিজস্ব চিত্র।



