Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিয়ালদহ স্টেশন ম্যানেজার পরিচয়ে বিয়ের পাকা কথা, নার্সের সঙ্গে সহবাস করে ১৫ লক্ষ হাতিয়ে বেপাত্তা

শিয়ালদহ স্টেশন ম্যানেজার পরিচয়ে বিয়ের পাকা কথা, নার্সের সঙ্গে সহবাস করে ১৫ লক্ষ হাতিয়ে বেপাত্তা
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বেসরকারি হাসপাতালে নার্সের কাজ করেন যুবতী। বিয়ের জন্য অনলাইনে দিয়েছিলেন বিজ্ঞাপন। সেই সূত্রেই প্রতারণার শিকার হলেন জয়পুরের ওই যুবতী। শিয়ালদহের স্টেশন ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে এক যুবক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিয়ের পাকা কথা বলতে আসে যুবতীর বাড়িতেও। তারপরেই একের পর এক ফন্দি ফিকির করে টাকা আদায়ের ছক কষে। রেলের হাসপাতালে চাকরি এবং তাঁর আত্মীয়কে রেলে চাকরি করে দেওয়ার নাম করে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা নিয়ে বেপাত্তা ওই যুবক। ওই যুবতী এনিয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন।  তাঁকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার সহবাসও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগকারিণীর দাবি, শুধু তাঁর সঙ্গে নয়, ওই প্রতারক একইভাবে ঠকিয়ে তিনটি বিয়ে করেছে। পুলিস জানিয়েছে, অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।
Advertisement
অভিযোগকারিণী বলেন, আমার বিয়ের জন্য চলতি বছরে পুজোর সময় একটি অনলাইন পোর্টালে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। তা দেখে অভিযুক্ত যুবক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। নিজেকে শিয়ালদহ স্টেশনের ম্যানেজার পরিচয় দেয়। এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের বাড়ি আসে। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে পাকা কথাও বলে। বিয়ের রেজিস্ট্রির জন্য আমার ছবি, আধার, প্যান, ভোটার কার্ড নিয়ে যায়। এরপর হঠাৎ একদিন কলকাতা এলাকায় আমি যে বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করতাম সেখানে যায়। সে জানায়, তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লক হয়ে গিয়েছে। তার বাবার শরীর খারাপ। চিকিৎসার প্রয়োজনে আমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেয়। পরে কলকাতায় ফ্ল্যাট কেনার নামে আমার কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা নেয়। তারপর ওই বেসরকারি হাসপাতালের কাজে আমাকে রেজিগনেশন দেওয়ায়। রেলের হাসপাতালে চাকরি করে দেবে বলে আরও দু’লক্ষ টাকা নেয়। পরে আমার এক আত্মীয়কে রেলে চাকরি করে দেবে বলে তাঁর কাছ থেকেও ১১ লক্ষ টাকা নেয়। শুধু তাই নয়, আমার দু’টি দামি স্মার্টফোন নিয়ে একটি ছোট ফোন দেয়। পরে জানতে পারি, মোবাইল দু’টি বিক্রি করে দিয়েছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে আমার সঙ্গে একাধিকবার সহবাস করেছে। গত নভেম্বর মাসের শেষের দিকে বেসরকারি হাসপাতালের কাজ ছাড়িয়ে বেডিং নিয়ে আমাকে জয়পুরে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ফিরে যায়। তারপর থেকেই মোবাইল বন্ধ। আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। 
অভিযোগকারিণী এও বলেন, যোগাযোগ করতে না পারায় আমার সন্দেহ হয়। তারপর যেসব অ্যাকাউন্টে সে টাকা লেনদেন করেছে তার সূত্র ধরে জানতে পারি, অভিযুক্ত আমাকে ভুয়ো পরিচয় দিয়েছিল। এমনকী, তার নাম ও বাড়ির ঠিকানাও ভুয়ো। সে আমাকে বর্ধমানে বাড়ি বলে জানিয়েছিল। পরে জানতে পারি, তার আসল বাড়ি বীরভূম জেলায়। তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। চরিত্র খারাপের কারণে উনি ডিভোর্সের মামলা করেছেন। তাঁদের একটি ছেলেও রয়েছে। শুধু তাই নয়, ওর স্ত্রীর কাছে জানতে পেরেছি, এর আগে সে আরও দু’টি মেয়েকে ঠকিয়ে বিয়ে করেছে। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির চেয়ে পুলিসের কাছে আর্জি জানিয়েছি।
সম্পর্কিত সংবাদ