Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলাবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বাঁকুড়া মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে

শিলাবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বাঁকুড়া মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও আরামবাগ: ফাল্গুনের প্রথম বৃষ্টিতে বাঁকুড়া ও আরামবাগের স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হল। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের কিছু জায়গায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টিও হয়। এদিন মাধ্যমিকের শেষ পরীক্ষা ছিল। বৃষ্টির কারণে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় পরীক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ে। ছাত্রছাত্রীদের দূরের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে অভিভাবকরা নাকাল হন। পাশাপাশি ফসলের ক্ষয়ক্ষতিরও আশঙ্কা করা হচ্ছে। 
Advertisement
বাঁকুড়ার উপকৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) দেবকুমার সরকার বলেন, বৃষ্টিতে আলু সহ অন্যান্য ফসলের কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা জানতে ব্লকের সহকারী কৃষি অধিকর্তাদের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। ওই রিপোর্ট পাওয়ার পর এব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে। 
বাঁকুড়া জেলা মাধ্য঩মিক পরীক্ষা আহ্বায়ক গৌতম দাস বলেন, শহরের স্কুলগুলির ছাত্রছাত্রীদের কাছাকাছি পরীক্ষা কেন্দ্র থাকে। তবে গ্রামীণ এলাকায় দূর-দূরান্তে পরীক্ষা কেন্দ্র থাকায় এদিন কিছুটা সমস্যা হয়। যদিও পরীক্ষা শুরুর সময় আকাশ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়। ফলে ততটা সমস্যা হয়নি। নির্বিঘ্নেই সব পরীক্ষার্থী এদিন কেন্দ্রে পৌঁছতে পেরেছে। কারও তেমন দেরি হয়নি। পুলিস, প্রশাসন ও বিদ্যুৎ দপ্তরের ভূমিকা ভালো ছিল। সেই কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও আমরা সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা পর্ব সম্পন্ন করতে পেরেছি।  
গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের ভক্তাবাঁধ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জীব বটব্যাল বলেন, মাধ্যমিকে আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্রদের সিট পড়েছিল অমরকানন দেশবন্ধু বিদ্যালয়ে। ছাত্রীরা পরীক্ষা দেয় অমরকানন মহামায়া বালিকা বিদ্যালয়ে। আমাদের এলাকা থেকে অমরকাননের দূরত্ব প্রায় সাত কিলোমিটার। এদিন সকাল ৮টা নাগাদ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। এলাকা কার্যত সাদা বরফের চাদরে ঢেকে যায়। আমাদের বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই আমাকে ফোন করে উদ্বেগের বিষয়টি জানান। পরে অবশ্য দুর্যোগ কেটে যায়। আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি কমে গিয়েছিল। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রছাত্রীরা পৌঁছে যায়। ফেরার সময় অবশ্য আকাশ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। তখন আর কোনও সমস্যা হয়নি।    
পুরুলিয়া জেলাজুড়েও এদিন আকাশ ছিল মেঘলা। বেলার দিকে হালকা বৃষ্টিপাত হয়। বোরো থানার আঁকরো গ্রামের কাছে একটি ইটভাটায় বজ্রাঘাতে এক মহিলার মৃত্যু হয়। মৃতার নাম জবা মুদি(৩১)। তাঁর বাড়ি মুদিডি গ্রামে। ঘটনায় ছ’জন পুরুষ ও মহিলা জখম হন। স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন আঁকরো গ্রামের কাছে একটি ইটভাটায় শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। সেই সময় বাজ পড়ে। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে এদিন বৃষ্টিতে জেলায় সেভাবে ক্ষতি হয়নি।
আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়। তারসঙ্গে ঝোড়ো হাওয়াও বয়েছে। তার জেরে কোথাও গাছ ভেঙে পড়ে। বিদ্যুতের তারও ছিঁড়েছে কিছু জায়গায়। ভেঙে পড়া গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করে প্রশাসন। বৃষ্টির জেরে কিছু এলাকায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতেও সমস্যায় পড়তে হয়। আরামবাগ থানার পুলিস গাড়িতে চাপিয়ে কিছু পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়। অন্যান্য জায়গাতেও অনেকে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছতে সাহায্য করেন। পরীক্ষা শুরুর আগে কয়েকটি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। যদিও বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার দাবি, এদিন পরীক্ষার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তারজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জেনারেটরের ব্যবস্থাও করা হয় কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্রে। মাঠে আলু থাকায় বৃষ্টির জন্য চাষিরা নালা কেটে জল বের করে দেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ