Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শালবনী ব্লক থেকে এগিয়ে থাকার দাবি তৃণমূল, বিজেপি দু’ পক্ষেরই

শালবনী ব্লক থেকে এগিয়ে থাকার দাবি তৃণমূল, বিজেপি দু’ পক্ষেরই
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: উপ নির্বাচন শেষ। ভোট নিয়ে কাটাচেরা করতে ব্যস্ত শাসক-বিরোধী উভয়পক্ষ। তৃণমূলের দাবি, শুধু শালবনী ব্লকের বাঁকিবাঁধ, কাশিজোড়া, কর্ণগড়, গড়মাল, সাতপাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার ভোটে লিড থাকবে। এনিয়ে ব্লক নেতৃত্ব দফায় দফায় বৈঠকও সেরেছে। জানা গিয়েছে, গত লোকসভা ভোটের নিরিখে বেশকিছু এলাকায় পিছিয়ে থাকলেও, উপ নির্বাচনে অনেকটাই এগিয়ে ঘাসফুল বাহিনী। তার অন্যতম কারণ, গোষ্ঠী কোন্দল ভুলে ব্লকের নেতারা বুথস্তরে গিয়ে প্রচার করেছেন। এছাড়া বর্তমানে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। তৃণমূল নেতৃত্ব জানাচ্ছে, ভোটের দিন শালবনীর বিভিন্ন প্রান্তে চষে বেড়িয়েছেন ব্লকস্তরের নেতারা। এছাড়া ভোটের জন্য অবজারভার দেওয়ায় বুথস্তরের নেতাদের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি হয়েছে। অপরদিকে বিজেপির নেতাদের দাবি, ভোটের দিন সকাল থেকেই অ্যাকটিভ ছিল গেরুয়া বাহিনী। তাই বাজিমাত করবে বিজেপিই। 
Advertisement
এদিন তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা বলেন, শালবনী ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারে গিয়ে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে মানুষ আশীর্বাদ করেছেন। শালবনী এলাকা থেকেই সবচেয়ে বেশি লিড থাকবে। বিজেপি নেতারাই বলুন, এত দিন কেন্দ্রে ক্ষমতায় থেকে মানুষের জন্য কী কাজ করেছেন। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শালবনী ব্লক ছিল একসময় সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি। পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের দখলে চলে যায় গোটা এলাকা। কিন্তু ২০১৭ সালের পর থেকে শালবনী ব্লকে বিজেপির উত্থান শুরু হয়। এরফলে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে ভালো ফল করে বিজেপি। পরে যদিও সাংগঠনিক দুর্বলতার জেরে পিছিয়ে পড়ে গেরুয়া শিবির। জানা গিয়েছে, গত লোকসভা ভোটের নিরিখে শালবনী ব্লকের বাঁকিবাধ সহ বেশকিছু এলাকায় বিজেপি ভালো ফল করেছিল। তাই উপ নির্বাচনের আগে থেকে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়ে তৃণমূল। জানা গিয়েছে, শালবনী ব্লকে প্রায় ৮১ হাজার ভোটার রয়েছে। সেই ভোটের অধিকাংশ তাদের ঝুলিতে যাবে বলেই দাবি তৃণমূলের। 
এক তৃণমূল নেতা বলেন, দলের অন্দরে গোষ্ঠী কোন্দল রয়েছে। তবে ভোটের সময়ে সকলে একজোট হয়ে লড়াই করেছে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ২ থেকে ৩ হাজার ভোটের লিড নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য এলাকার তুলনায় শালবনী ব্লক এলাকায় প্রচার বেশি হয়েছে। তবে এখনও বেশকিছু এলাকায় বিজেপির ভালো প্রভাব রয়েছে। তাই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইকে সামনে রেখে এখন থেকেই সকলকে একসঙ্গে চলার বার্তা দাওয়া হয়েছে। 
শালবনী ব্লকের দাপুটে নেতা সন্দীপ সিংহ বলেন, উপ নির্বাচনে ভালোই ফল হবে আমাদের। লিড বাড়ানোর পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। বিজেপি ভেবেছিল, গোষ্ঠী কোন্দলের জের অনেকেই ময়দানে নামবে না। কিন্তু তারা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আসলে বিজেপির কোনও লোক নেই। 
এক বিজেপি নেতা বলেন, ভোটের দিন প্রার্থী শালবনী ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে চষে বেড়িয়েছেন। এরফলে নির্বিঘ্নেই হয়েছে ভোট গ্রহণ। তবে এখনও সংগঠন অনেকটাই দুর্বল। নেতারা দলীয় পতাকা লাগিয়ে নিজেদের দায়িত্ব থেকে সরে গিয়েছেন। জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, বিভিন্ন এলাকায় চাপা সন্ত্রাস হয়েছে। তবে শালবনী এলাকা থেকে এগিয়ে থাকবে বিজেপি। তার অন্যতম কারণ লাগামছাড়া দুর্নীতি। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় এখনও রাস্তা, জলের সমস্যা রয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ