Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শাল শিমূলে ঘেরা জলাশয়ে জল খেতে আসে হরিণ

শাল শিমূলে ঘেরা জলাশয়ে জল খেতে আসে হরিণ
  • ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: কাঁকড়া অর্থ পাহাড় আর ঝোর মানে জঙ্গল। জঙ্গলে ঢাকা পাহাড়।  চাকাডোবা, কাশমোর, কাশীডাঙা, ময়ূরঝর্না, ছুরিমার পথ গিয়েছে কাঁকড়াঝোরের দিকে। দূরে গেলেই দলমা পাহাড়। পাহাড়ের পাদদেশের কিছু দূরেই রয়েছে ‘হরিণঘেরা জ্যোৎস্না বন’-এর মাঝখানে স্বচ্ছ জলাশয়। বন্যপ্রাণীরা মাঝরাতে এখানে জল খেতে আসে। অজানা এই জায়গায় বছর শেষে রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকের  ভিড় বাড়ছে।কাঁকড়াঝোরের জঙ্গল তিন জেলা ও এক রাজ্যের সীমানায় অবস্থিত। পাহাড়ের গা ঘেঁষে কুসুম, শাল, পিয়াশাল, সেগুন, আকাশমণি, শিমূল গাছের ঘন বন। বুনো শুয়োর, ময়ূর, হায়না এখানে চরে বেড়ায়। কেন্দু ও মহুয়ার লোভে এই জঙ্গলে চলে আসে। রাতের বেলায় জলাশয়ে আসে জল খেতে। হাতির পালও কখনও সখনও দলমা পাহাড় থেকে নেমে এই জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। জ্যোৎস্না বনের কথা বাইরের জগতের মানুষের কাছে এখনও  অজানা। স্থানীয় গ্ৰামের মানুষ পাতা সংগ্রহ  করতে এই জঙ্গলে অবশ্য যায়। কিছুদিন আগে এই জঙ্গলে ঘুরে বেড়িয়েছে বাঘিনী জিনাত। যা নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। কাঁকড়াঝোরের জ্যোস্না বন সংলগ্ন কদমডিহা, বুড়িঝোর, শুষনিজীবী, সিঙ্গাডোবা গ্রামে। এইসব গ্ৰাম থেকে মোরাম পথে ২ কিলোমিটার গেলেই সিঙ্গাডোবা ও বুড়িঝোর গ্রামের সীমান্ত বাঁধে বন্দি কেটকি ঝর্না। বনে উড়ে বেড়ায় টিয়া, নীলকণ্ঠ সহ ঝাঁক ঝাঁক পাখি। দেখা মেলে বন ময়ূরেরও। কাঁকড়াঝোর থেকে চাকাডোবা যাওয়ার রাস্তা ধরে এগলেই ডান দিকে মোরামের রাস্তা। রাস্তা ধরে কিছুটা গেলেই সামনে পড়বে ছোট্ট জলাশয়। ছোট ছোট পাথরের উপর দিয়ে হালকা সবুজ আভার জল বয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষজনের কাছে যা  হরিণঘেরার জ্যোৎস্না বন নামে পরিচিত। গ্ৰামবাসীদের বক্তব্য, বেলপাহাড়ীর এই ঘন জঙ্গলে একসময় প্রচুর বন্যপ্রাণী দেখা যেত। জঙ্গল ছোট হয়ে আসায় বন্যপ্রাণীর সংখ্যাও কমেছে। বনের জলাশয়ে হরিণেরা একসম জল খেতে আসত। সেই থেকেই জায়গাটির নাম হয় হরিণঘেরা। অতীতে জ্যোৎস্না রাতে দেখা যেত হরিণ, সম্বরদের। কাঁকড়াঝোর জঙ্গল এলাকার বাসিন্দা জগন্নাথ মানকি বলেন, বেলপাহাড়ী এলাকার হরিণঘেরা জ্যোস্না বনের জলাশয়ের কথা বাইরের জগতের মানুষ খুব বেশি জানে না। জ্যোৎস্না রাতে জলাশয়ে বন্যপ্রাণীরা এখানে জল খেতে আসত। এখনও হাতির দল এখানে জল খেতে আসে। অল্প সংখ্যক পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন। সিঙ্গাডোবা গ্ৰামের বাসিন্দা অনূপ মাহাত বলেন, বাঁশপাহাড়ীর বনভূমির পাদদেশে আমাদের জীবন কাটে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ