Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শক্তিগড়-মশাগ্রাম অটো সিগনালিংয়ের কাজ, ১৪-১৭ নভেম্বর দুর্ভোগের আশঙ্কা, বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল

শক্তিগড়-মশাগ্রাম অটো সিগনালিংয়ের কাজ, ১৪-১৭ নভেম্বর দুর্ভোগের আশঙ্কা, বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: হাওড়া ডিভিশনের শক্তিগড় ও মশাগ্রাম স্টেশনের মাঝে অটো সিগন্যালিং ও মশাগ্রাম ইয়ার্ড রিমডেলিং শুরু হতে চলেছে। তার জন্য আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে টানা চারদিন ব্লক নিচ্ছে রেল। যার জেরে বোলপুর, সিউড়ি ও রামপুরহাটের উপর দিয়ে যাওয়া একগুচ্ছ মেল-এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বহু ট্রেন ঘুরপথে চলাচল করবে। রেলের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তা জানানো হয়েছে। ফলে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে চলেছেন যাত্রীরা। পুজোর মরশুম শেষে বাইরে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলিতেও এর প্রভাব পড়তে চলেছে।
Advertisement
রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৪ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত হাওড়া-বোলপুর শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস, হাওড়া রামপুরহাট শহিদ এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-রামপুরহাট ইন্টারসিটি, হাওড়া-সিউড়ি হুল এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-সিউড়ি মেমু এক্সপ্রেস বাতিল থাকবে। এছাড়া ১৩-১৬ নভেম্বর বাতিল থাকবে হাওড়া- আজিমগঞ্জ কবিগুরু এক্সপ্রেস, ১৪নভেম্বর থেকে তিনদিন শিয়ালদহ- আসানসোল ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস এবং ১৬ ও ১৭ নভেম্বর হাওড়া-আজিমগঞ্জ গণদেবতা এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে। সেইসঙ্গে শিয়ালদহ ও হাওড়া থেকে বর্ধমানের আপ ও ডাউন বেশকিছু ইএমইউ ট্রেন বাতিল থাকবে। হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি শতাব্দী এক্সপ্রেস, হাওড়া-গুয়াহাটি সরাইঘাট এক্সপ্রেস, পদাতিক এক্সপ্রেস ব্যান্ডেল, কাটোয়া ও আজিমগঞ্জ হয়ে ঘুরপথে চলাচল করবে। 
ব্লকের জেরে হাজার হাজার যাত্রী সমস্যায় পড়তে চলেছেন। বিশেষ করে বাতিল হওয়া ট্রেনে চড়ে অনেকেই কর্মসূত্রে বীরভূম জেলায় যাতায়াত করেন। তাঁদের হয়রানির মুখে পড়তে হবে। একইভাবে বীরভূমের বিভিন্ন এলাকার বহু শ্রমিক বর্ধমানে যান। আবার বহু চাকুরিজীবী কলকাতা ও বর্ধমান থেকে নিত্য যাতায়াত করেন। পাথর শিল্পাঞ্চল হওয়ায় বীরভূম ছাড়াও লাগোয়া মুর্শিদাবাদের কয়েক হাজার শ্রমিক এখানে কাজে আসেন। ট্রেনই তাঁদের ভরসা। পুজোর পর এমনিতেই তাঁদের হাতে টান। তার উপর এই কয়েক দিন ট্রেন বাতিল থাকার ফলে তাঁদের কর্মহীন থাকতে হবে। 
মুরারই কবি নজরুল কলেজের অধ্যাপক অর্নিবাণজ্যোতি সিংহ বলেন, পুজোর ছুটি শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি খুলে গিয়েছে। এই জেলায় বেশিরভাগ বাইরে থেকে শিক্ষক আসেন। যাঁরা কলকাতা, বর্ধমান থেকে যাতায়াত করেন তাঁদের গাড়ি ভাড়া করে আসতে হবে। নিত্যযাত্রী অনিলকুমার রোথরা বলেন, ট্রেন বাতিলে বহু মানুষের রুটিরুজিতে টান পড়বে। কিন্তু রেলের উন্নয়নের কাজও তো করতে হবে।  ট্রেন বাতিলের জেরে রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র তারাপীঠে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার ছাড়াও ছুটির দিন, শনি ও রবিবার ভিড়ে ঠাসা থাকে মন্দির। পুজোর পর অনেকের তারাপীঠে আসার ইচ্ছে থাকলেও ট্রেন বাতিলের জেরে নিরাশ হতে হবে তাঁদের। রামপুরহাটের বাসিন্দা সর্বানন্দ মণ্ডল বলেন, জরুরি প্রয়োজনে ১৫ নভেম্বর সরাইঘাট এক্সপ্রেস ধরে গুয়াহাটি যাওয়ার কথা। সেই মতো আগাম রির্জাভেশন টিকিটও কাটা হয়েছে। ট্রেনটির রুট পরিবর্তন করায় সমস্যায় পড়লাম। এখন গাড়ি ভাড়া করে আজিমগঞ্জে গিয়ে ট্রেন ধরা ছাড়া উপায় নেই। তিনি বলেন, এই ধরনের ব্লক নেওয়ার কথা কমপক্ষে এক মাস আগে থেকে প্রচার করা দরকার। তাতে যাত্রীদের ভোগান্তি একটু কম হতো।
সম্পর্কিত সংবাদ