Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিক্ষক দম্পতির দত্তক, নতুন বছরে বাবা-মা পেল হোমের ন’বছরের শিশু

শিক্ষক দম্পতির দত্তক, নতুন বছরে বাবা-মা পেল হোমের ন’বছরের শিশু
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ইচ্ছেপূরণ!বেশ কয়েক মাস আগে হোমের চিঠির বাক্সে ‘মনের কথা’ লিখেছিল প্রিয়া (নাম পরিবর্তিত)। প্রার্থনা করেছিল, নতুন বছরে সে যেন বাবা-মা পায়!বছর শেষের আগেই ইচ্ছেপূরণ হল প্রিয়ার। উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির এক শিক্ষক দম্পতি ‘দত্তক’ নিলেন তাকে। দেড় বছরের অপেক্ষার পর সরকারি প্রক্রিয়ায় ন’বছরের ওই শিশুকন্যাকে তুলে দেওয়া হল তাঁদের হাতে।
Advertisement
মঙ্গলবার সকালে বাবা-মার সঙ্গে নৈহাটির বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে প্রিয়া। সকালে দুধ-বিস্কুট খেয়েছে। প্রিয়ার নতুন নামকরণও হয়েছে সেখানে।শিশুটি নতুন বছরে বাবা-মা পাওয়ায় যারপর নাই খুশি জলপাইগুড়ির ‘অনুভব’ হোমের সুপার ডালিয়া মিত্র। বললেন, মেয়েটি আমাদের এখানে তিন বছর ছিল। স্কুলেও ভর্তি হয়েছিল। নৈহাটির এক শিক্ষক দম্পতি তাকে দত্তক নিলেন। মনের কোণে একটাই ইচ্ছে ছিল মেয়েটির, নতুন বছরে সে যেন বাবা-মা পায়। শিশুটির সেই স্বপ্নপূরণ হওয়ায় আমরাও দারুণ খুশি।
শুধু প্রিয়া নয়, নতুন বছরে বাবা-মা পেতে চলেছে চার মাসের হিয়া (নাম পরিবর্তিত)। তাও আবার দেশে নয়, একেবারে আমেরিকায়। হিয়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। একটি চোখে ঠিকমতো দেখতে পায় না। তাকে দত্তক নিয়েছেন আমেরিকার কানসাসের ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক দম্পতি। সরকারি নিয়ম মেনে ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে দত্তক প্রক্রিয়া। এখন শুধু হিয়ার বিদেশে পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষা। বর্তমানে হিয়া রয়েছে জলপাইগুড়ির কোরক হোমের অধীনে সরকার পরিচালিত স্পেশালাইজড অ্যাডপশন এজেন্সিতে।
কোরক হোমের সুপার গৌতম দাস বলেন, শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বার্থ সার্টিফিকেটও তৈরি হয়ে গিয়েছে। এখন শুধু পাসপোর্ট হাতে এসে গেলেই আমেরিকা থেকে ওই দম্পতি এসে শিশুটিকে নিয়ে যাবেন। নতুন বছরে শিশুটি বাবা-মা পাচ্ছে, এর চেয়ে আনন্দের খবর আর কী হতে পারে।
হিয়ার মতোই বিদেশে বাবা-মার কাছে যাওয়ার অপেক্ষায় আড়াই মাসের আরও একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। তাকে দত্তক নিচ্ছেন স্পেনের এক দম্পতি। শীঘ্রই চূড়ান্ত শুনানি রয়েছে। তারপরই সম্পন্ন হবে দত্তক প্রক্রিয়া। ওই শিশুটিও কোরক হোমের অধীনে সরকার পরিচালিত অ্যাডপশন এজেন্সিতে রয়েছে।  
জলপাইগুড়ি জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক সুদীপ ভদ্র বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অনেকেই দত্তক নিচ্ছেন। বিশেষ করে বিদেশের দম্পতিদের মধ্যে এ ধরনের শিশুদের দত্তক নিতে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সরকারি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে প্রতিটি শিশুকে দত্তক দেওয়া হচ্ছে। দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই হোক না কেন, হোমে থাকা শিশুরা বাবা-মা পাচ্ছে, এটা আমাদের কাছে খুবই খুশির খবর।
দত্তকের পাশাপাশি যেসব শিশুর পরিবার রয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে তাদের বাড়ি ফেরানোর কাজও চালিয়ে যাচ্ছে হোম কর্তৃপক্ষ। কোরক হোমের সুপার জানিয়েছেন, বছর শেষের দিন তাঁদের হোম থেকে দু’জন বাড়িতে ফিরে গেল। একজনের বাড়ি মালদহে, অন্যজনের কালচিনিতে।
সম্পর্কিত সংবাদ