Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিক্ষাবর্ষ শেষ, পশ্চিম মেদিনীপুরে এখনও বহু স্কুলে পৌঁছয়নি ইউনিফর্ম

শিক্ষাবর্ষ শেষ, পশ্চিম মেদিনীপুরে এখনও বহু স্কুলে পৌঁছয়নি ইউনিফর্ম
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: শিক্ষাবর্ষ শেষ হয়ে গেল, অথচ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বহু স্কুলের পড়ুয়ারা ইউনিফর্মই পেল না। যে স্কুলগুলির পড়ুয়া পেয়েছে, তাদেরও ইউনিফর্ম ঠিকঠাক ছিল না। এনিয়ে অভিভাবকরা ভীষণ ক্ষুব্ধ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাও প্রশাসনকে তাঁদের ক্ষোভ জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি তথা দাসপুর-২ ব্লকের বরুণা সৎসঙ্গ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুজিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘জেলার বহু স্কুলে ২০২৪ সালের ইউনিফর্ম আসেনি। দুঃখের কথা কী বলব! আমার নিজের স্কুলই এখনও ইউনিফর্ম পায়নি। অভিভাবকদের প্রশ্নের জবাব দিতে পারছি না।’ ঘাটাল মহকুমার অতিরিক্ত বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) হিমাদ্রীশেখর ঘোষ ইউনিফর্ম না পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু স্কুল পোশাক পায়নি বলে জেনেছি। কেন পায়নি তা খোঁজ নিয়ে মন্তব্য করব। তবে আগামী দিনে সবাই পোশাক পেয়ে যাবে।’
Advertisement
প্রত্যেক বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মাসের মধ্যে হাইস্কুলের পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা এক বছরের জন্য দু’ সেট করে ইউনিফর্ম পেয়ে যায়। কিন্তু এবছর ব্যতিক্রম দেখা গেল। ওই মাসে তো দূরের কথা, বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তারা স্কুল ইউনিফর্ম পায়নি। জেলার বহু পরিবার রয়েছে, যারা স্কুলের পোশাকের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে। বিগত এক বছর ধরে পোশাক না পেয়ে তাঁরা স্কুলের উপর চড়াও হচ্ছেন। প্রধান শিক্ষকরা জানান, অভিভাবকদের ধারণা, স্কুলই ইচ্ছে করে ইউনিফর্ম দিচ্ছে না। তাই তাঁরা মাঝে মাঝেই স্কুলের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে যাচ্ছেন।
আবার অনেক স্কুল শিক্ষাবর্ষের শেষে নভেম্বর মাসে ইউনিফর্ম পেয়েছে। সেই পোশাক পরে তাদের এবছর আর স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। সেই ইউনিফর্মের মানও ভালো নয়। ঘাটাল ব্লকের এক হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জানলেন, যেসব ছাত্রদের ফুল প্যান্ট দেওয়ার কথা ছিল তারা হাফপ্যান্ট পেয়েছে। ছাত্রীরা ওড়না পায়নি। ইউনিফর্মের মান অত্যন্ত খারাপ।সম্প্রতি ঘাটালের মহকুমা প্রশাসন বিদ্যালয়গুলির প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে একটি রিভিউ মিটিং ডেকেছিলেন। সেখানে প্রধান শিক্ষকরা পোশাক না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরলে চরম অস্বস্তিতে পড়ে প্রশাসন। শিক্ষকরা বলেন, ‘সব চাইতে খারাপ লাগছে ২০২৪ সালের ইউনিফর্ম না দিয়ে ২০২৫ সালের ইউনিফর্মের জন্য ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি হাস্যকর বিষয়।’
সুজিতবাবু বলেন, ‘আমি মহকুমা প্রশাসন, শিক্ষাদপ্তর এবং জেলা শাসককেও ২০২৪ সালের ইউনিফর্ম দেওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ করেছি। আশাকরি খুব শীঘ্রই সদুত্তর পাওয়া যাবে।’
সম্পর্কিত সংবাদ