Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিক্ষা পোর্টালে সার্ভার ডাউন থাকায় কাজে সমস্যা, রেজাল্ট দিতে পারেনি অনেক স্কুল

শিক্ষা পোর্টালে সার্ভার ডাউন থাকায় কাজে সমস্যা, রেজাল্ট দিতে পারেনি অনেক স্কুল
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: সার্ভার ডাউন থাকায় বাংলার শিক্ষা পোর্টালে কোনও কাজ করা যাচ্ছে না। তার জেরে পুরুলিয়া জেলার বিদ্যালয়গুলি সমস্যায় পড়েছে।  সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত অনেক বিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে পরীক্ষার রেজাল্ট তুলে দিতে পারেনি। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলি পাশ করা ছাত্রছাত্রীদের অন্যত্র ভর্তির জন্য টিসি(ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দিতে গিয়েও সমস্যায় পড়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিযোগ, গত বছরও একই সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। সেই সময় জেলা শিক্ষাদপ্তরকে সমস্যার কথা জানানো হয়েছিল। মিলেছিল প্রতিশ্রুতি। কিন্তু তারপরেও পোর্টালের সমস্যা সমাধানে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পড়ুয়াদের বিভিন্ন তথ্য জমা রাখার জন্য বাংলার শিক্ষা পোর্টাল চালু করা হয়েছে। পোর্টালে প্রতিটি বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নাম, বয়স এবং কোন শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রী সেই তথ্য থাকে। পাশাপাশি তাদের পরিচয় সূচক(আইডি) একটি নম্বর দেওয়া হয়। পোর্টালে দু’টি বিষয়ে কাজ করা হয়। একটিতে শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার রেজাল্টের কাজ হয়। অন্যটিতে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি থেকে শুরু করে ড্রেস, জুতো, ব্যাগ দেওয়া এবং টিসি দেওয়ার মতো কাজগুলি করতে হয়।
শিক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, এখন সারা বছরে একজন পড়ুয়ার তিনবার পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন (পরীক্ষা) হয়। তিনটি মূল্যায়ন একত্রিত করে একজন পড়ুয়ার চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করা হয়। সেই ফলাফল বাংলা শিক্ষা পোর্টালে আপলোড করতে হয়। তিনটি মূল্যায়ন মিলিয়ে একটি চূড়ান্ত মার্কশিট তৈরি হয়ে যায়। তা ডাউনলোড করে প্রিন্ট আউট নিয়ে পড়ুয়াদের হাতে দেওয়া হয়। অভিযোগ, পোর্টালে সার্ভার ঠিকমতো না খোলায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। অনেক বিদ্যালয় চাইলেও সময় মতো ছাত্র-ছাত্রীদের রেজাল্ট দিতে পারেনি।
জেলা পরিষদ(শিক্ষা বিভাগের) সদস্য তথা সাঁতুড়ির কুলাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমল মণ্ডল বলেন, রাজ্যজুড়ে এক সঙ্গে সমস্ত বিদ্যালয়গুলি মার্কশিট তৈরি, টিসি দেওয়ার কাজ করে। রাজ্যজুড়ে একটি পোর্টালে কাজ হয়। তাই সাময়িক অসুবিধা হয়। তবে আগাম যারা কাজ করতে পেরেছে, তাদের কোনও অসুবিধা হয়নি।
পুরুলিয়া জেলা নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক প্রণব মাহাত বলেন, সরকার পোর্টালটিকে উন্নত করার কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এবার ছাত্রছাত্রীদের রেজাল্ট তৈরি করতে অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বাড়িতে বসে রাত জেগে, ভোরে উঠে কাজ করতে হয়েছে। তারপরেও অনেক বিদ্যালয় সঠিক সময়ে রেজাল্ট দিতে পারেনি।
ডিআই প্রাইমারি প্রলয়েন্দু ভৌমিক বলেন, সমস্ত বিদ্যালয়ে এক সঙ্গে কাজ হওয়ার জন্য সার্ভারে সমস্যা হচ্ছে। অভিযোগ পেয়েছি। আশা করছি, কিছু দিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ