সৌম্য দে সরকার, মালদহ: আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর উপলক্ষ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে আন্তর্জাতিক সংগীত সম্মেলনের আয়োজন হচ্ছে। সেখানে ভারত থেকে ডাক পেয়েছেন মালদহের ইংরেজির অধ্যাপক ডঃ শিবশংকর চৌধুরী। শুধু তাই নয়, আধুনিক পাশ্চাত্য সংগীত নিয়ে তাঁর চর্চা ও গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে একটানা ১০ বছরের ভিসা মঞ্জুর করেছে মার্কিন সরকার। আমেরিকার ভিসা পেতে যেখানে সম্প্রতি অনেক কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে, আবেদন করার মাত্র ১২ দিনের মধ্যে গনিখান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ৪১ বছর বয়সি এই অধ্যাপকের ভিসা মঞ্জুর করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। একই সঙ্গে যৌথভাবে পরবর্তী মিউজিক অ্যালবাম তৈরির প্রস্তাব শিবশংকরকে দিয়েছে এমি অ্যাওয়ার্ড জয়ী ম্যাকিনটোস ফিল্মস অব হলিউড সংস্থা।
মালদহ শহরের দেশবন্ধুপাড়ার বাসিন্দা শিবশংকর ইংরেজি সাহিত্যে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সেটার কলেজ থেকে ২০১৩ সালে শিক্ষক শিক্ষণের কোর্সও করেছেন তিনি। তার আগে জার্মানির মিউনিখে যুব সম্পদ উন্নয়ন নিয়ে কোর্স করেন শিবশংকর। পাশাপাশি, ২০১২ থেকে পাশ্চাত্য সংগীতে তালিম নিতে শুরু করেন তিনি।
শিবশংকরের কথায়, জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর স্টাডি অব পপুলার মিউজিক আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর উপলক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সংগীত সম্মেলন আয়োজন করছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনটি সংগীত পরিবেশন করব। সেগুলি হল ব্যাটল জোন, ১৯৪৬ এবং আই অ্যাম ভাইরাস। এই সংগীতগুলির লেখক ও সুরকার আমিই।
সংগীতচর্চা করতে গিয়ে শিবশংকর ২৩টি নিজস্ব মিউজিক অ্যালবাম তৈরি করেন। আন্তর্জাতিক মহলে সমাদৃত হয়েছে সবগুলিই। এর আগে ব্রিটেনের সরকারও ২০১৯ সালে তাঁকে ১০ বছরের ভিসা অনুমোদন করেছে। এছাড়া এই আন্তর্জাতিক সংগীত কনফারেন্সে কয়েকটি সভায় সভাপতিত্বও করবেন শিবশংকর। এই কনফারেন্সে অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় দেড় শতাধিক আবেদন জমা পড়েছিল। গৃহীত হয়েছে ৭৫টি। তার মধ্যে শিবশংকর একজন। একান্ত সাক্ষাৎকারে শিবশংকর বলেন, অন্তর থেকে পাশ্চাত্য সংগীত চর্চার তাগিদ অনুভব করি। বালিগঞ্জের ক্যালকাটা স্কুল অব মিউজিক থেকে চার বছর সংগীতের তালিম নিয়েছি।
প্রাক্তন রেলকর্মী সুধীরকুমার চৌধুরী এবং মিনা চৌধুরীর কনিষ্ঠ সন্তান শিবশংকরের লেখাপড়া মালদহ শহরের রেলওয়ে হাইস্কুল এবং উমেশচন্দ্র বাস্তুহারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। তাঁর দিদি যূথিকা চৌধুরী কলকাতার যোগমায়া দেবী কলেজের দর্শনের অধ্যাপিকা। দাদা রাজা চৌধুরী একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে কর্মরত। আপাতত ইংরেজি অধ্যাপনার পাশাপাশি মার্কিন মুলুকে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে সংগীত উপস্থাপনার মাধ্যমে দেশের মাথা উঁচু করার লক্ষ্যে অবিচল শিবশংকর।