নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কলকাতার কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর কিংবা বীরভূমের তারাপীঠ। বাংলাজুড়ে জাগ্রত কালী মন্দিরের সংখ্যা গুনে শেষ করা যায় না। এ সবের সঙ্গে হাওড়ার এক পুরনো কালী মন্দিরের মাহাত্ম্যও ছড়িয়ে রয়েছে বাংলা থেকে অনেক দূরে। দক্ষিণ ভারতে এ কালী খুব জনপ্রিয়। এই হাজার হাত কালী রয়েছেন হাওড়ার শিবপুরের ওলাবিবিতলায়। তন্ত্রমতে পুজো হয়। তা দেখতে দীপান্বিতা অমাবস্যায় আসে হাজার হাজার মানুষ।
শোনা যায়, দেবী মূর্তির হাজারটি হাত আজ পর্যন্ত কেউ গুনে শেষ করতে পারেননি। তাছাড়া মন্দিরে গিয়ে হাতের সংখ্যা গোনাও নিষেধ। কালী মন্দিরটি চাঁদনি শ্রেণীভুক্ত। মন্দিরের উত্তর দেওয়ালের সামনে রুপোলি কেশরযুক্ত সিংহ। তার উপরে রয়েছে দেবীর বাম পদ। দক্ষিণ পদের অবস্থান মহাপদ্মের উপরে। এর অর্থ হল, দেবী স্থল ও জলে বিরাজ করেন। তাঁর বাঁ হাতে খড়্গ। ডান হাতে পঞ্চশূল। বিগ্রহের গাত্রবর্ণ সবুজ। পরণে লাল পাড়ের সাদা শাড়ি। দু’কাঁধে সর্পফনা, মাথায় পঞ্চপুষের (পাঁচটি ফুল) মুকুট। মাথার উপরে রাজছত্র। প্রতিমা ত্রিনয়নী। দৃষ্টি তেজপূর্ণ। চোখের দিকে তাকালে গা শিরশির করে ওঠে। নিত্যদিন তিনবেলা করে মন্দিরে পুজো হয়। নৈবেদ্য সাজানো হয় মাছ, ভাত, ফল, মিষ্টি দিয়ে। রাতে আরতির পর প্রসাদ বিতরণ করা হয়। যদিও তন্ত্রমতে পুজো তবুও বলি হয় না।
হাজার হাত কালীর মন্দিরের খ্যাতি ছড়িয়েছে দক্ষিণ ভারতে। বছর ৫০ আগে এক দক্ষিণ ভারতীয় ভক্ত পুজো দিয়ে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছিলেন। এরপর তামিলনাড়ুতে গিয়ে কালীর মাহাত্ম্য প্রচার করেন। সেই থেকে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষ তিথিতে দক্ষিণ ভারত থেকে এখানে পুজো দিতে আসে প্রচুর মানুষ। সেদিন আমিষ ভোগ হয় না। হয় টকভাত, সম্বর, বড়া, দইভাত, ঝুড়িভাজা, পোঙ্গল।
মন্দিরের প্রতিষ্ঠার কাহিনিও চমকপ্রদ। কলকাতার চোরবাগানে থাকতেন তান্ত্রিক আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বা আশুতোষ তর্করত্ন। তিনি দেবী চণ্ডীর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। কিন্তু মন্দির তৈরির সামর্থ্য তাঁর ছিল না। সে সময় তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায় স্থানীয় একটি বণিক পরিবার। টাকাপয়সা দিয়ে সাহায্য করে। সঙ্গে আরও অনেকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। তারপর মন্দির তৈরি শুরু এবং ১৮৮০ সাল কাজ শেষ হয়। কালীপুজো উপলক্ষ্যে এখন জোর প্রস্তুতি চলছে। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের বর্তমান প্রজন্ম সামলাচ্ছেন সেবায়েতের কাজ। -নিজস্ব চিত্র