Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মা কালীর বুকে দাঁড়িয়ে শিব, এই রূপেই পুজো হয় মধ্যমগ্রামের মহাকাল মন্দিরে

শিবের বুকে দাঁড়িয়ে মা কালী। মায়ের এই রূপ সকলেরই জানা। কিন্তু মা কালীর অন্যরূপ এবার দেখা গেল মধ্যমগ্রামের মহাকাল মন্দিরে। এখানে কালীর পদতলে শিব নন। শিবের পদতলে রয়েছেন কালী।

মা কালীর বুকে দাঁড়িয়ে শিব, এই রূপেই  পুজো হয় মধ্যমগ্রামের মহাকাল মন্দিরে
  • ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী , বারাসত:

Advertisement

শিবের বুকে দাঁড়িয়ে মা কালী। মায়ের এই রূপ সকলেরই জানা। কিন্তু মা কালীর অন্যরূপ এবার দেখা গেল মধ্যমগ্রামের মহাকাল মন্দিরে। এখানে কালীর পদতলে শিব নন। শিবের পদতলে রয়েছেন কালী। আর কালীর বুকে পা দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন দেবাদিদেব মহাদেব। এই রূপেই বছরের পর বছর মা কালী পূজিত হয় আসছেন মধ্যমগ্রামের মহাকাল মন্দিরে। শিবের অপর এক নাম হল মহাকাল। তাই মধ্যমগ্রামের এই মন্দিরটি মহাকাল মন্দির হিসেবেই ভক্তদের কাছে পরিচিত।
উত্তরবঙ্গে দুর্যোগে বিধ্বস্ত এলাকায় গিয়ে শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মধ্যমগ্রামেও রয়েছে একটি মহাকাল মন্দির। মধ্যমগ্রামের চৌমাথা থেকে বাদু রোড ধরে মিনিট দশেকের হাঁটা পথ। বহু বছর আগে এই জমিটি ছিল রানি রাসমণির এস্টেটের অধীনে। এক পারিষদকে তিনি মধ্যমগ্রামের এই জমি দান করেছিলেন। তখন এই ফাঁকা জমিতে ছিল একটি শিবের মন্দির ও শিবলিঙ্গ। পরবর্তীকালে অবশ্য এই জমি উত্তরাধিকার সূত্রে পান তাঁর ছেলে। তিনি এখানে মন্দির নির্মাণের চিন্তাভাবনা করেন। কথিত আছে, ওই শিব মন্দিরে একটি ক্যালেন্ডার উড়ে এসে পড়েছিল। ক্যালেন্ডারের পাতায় ছিল মহাকালের ছবি। শিবের পদতলে রয়েছেন মা কালী। এরপর সেই  জায়গাতেই দোচালার মন্দির নির্মিত হয়। ক্যালেন্ডারের সেই ছবি দেখেই তৈরি হয় মূর্তি। নতুনভাবে মধ্যমগ্রামে মহাকাল মন্দিরটি তৈরি হয় ১৯৮০ সালে। কালীপুজোর দিন ও মন্দিরের বাৎসরিক অনুষ্ঠানে দূর-দূরান্ত থেকে বহু ভক্ত আসেন মধ্যমগ্রামের মহাকাল মন্দিরে। 
কথিত আছে, অসুর রক্তবীজকে বধ করে ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন কালী। রাগের বশে বিশ্বকে ধ্বংস করতে নেমে পড়েন ছিন্নমস্তা কালী। তাঁর ধ্বংসলীলা থামাতে তখন দেবকূলের কেউই সক্ষম হচ্ছিলেন না। তখন বিশ্বকে রক্ষা করতে ছিন্নমস্তা কালী যে পথে আসছেন, সেই পথেই শিব নিজে কালীর পদতলে শুয়ে পড়েন। শিবের বুকে পা দেওয়ার পরেই মা নীচের দিকে তাকিয়ে দেখেন, সেখানে স্বামী শুয়ে আছেন। তখন লজ্জায় মা কালীর জিভ বেরিয়ে আসে। এটাই কালীর রূপ। কিন্তু সেই জায়গায় উল্টো ছবি কেন? এ প্রসঙ্গে মন্দিরের প্রধান সেবায়িত সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মা কালীর পদতলে শিব— এই রূপই সাধারণ মানুষ দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু শিবের এই রূপ একমাত্র মধ্যমগ্রামের মহাকাল মন্দিরেই আছে। শিবের অপর নাম মহাকাল। তাঁর রূপ আরও উগ্র আর ভয়ংকর। সেই রূপ দেখে ভক্তরা ভয় পেতেন। তাই, এখানে শিবের সৌম্য মূর্তি করা হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ