Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফুল-বাজারে আগুন, শ্রাবণের সোমবারে শিবপুজো করতে গিয়ে নাভিশ্বাস গৃহস্থের

শ্রাবণ মাস চলছে। শিবপুজো নিয়ে মহা ধুমধাম চারিদিকে। ঠাকুরের মাথায় চড়াবেন বলে আকন্দের মালা কিনতে কর্তাকে বলেছিলেন গিন্নি।

ফুল-বাজারে আগুন, শ্রাবণের সোমবারে শিবপুজো করতে গিয়ে নাভিশ্বাস গৃহস্থের
  • ২৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শ্রাবণ মাস চলছে। শিবপুজো নিয়ে মহা ধুমধাম চারিদিকে। ঠাকুরের মাথায় চড়াবেন বলে আকন্দের মালা কিনতে কর্তাকে বলেছিলেন গিন্নি। মানিকতলা বাজারে গিয়ে মাথায় হাত দিয়ে কাদামাখা রাস্তাতেই বসে পড়লেন নিকুঞ্জ চক্রবর্তী। দোকানদার একটি আকন্দ মালার দাম চাইল ৮০ টাকা। মাসের শেষ চাল কিনবেন না ডাল, ভেবে এমনিতেই কূলকিনারা পাচ্ছেন না নিকুঞ্জ। তার উপর ঠাকুরের ফুলের দাম এত! মূল্যবৃদ্ধির কড়া আঁচে সেঁকে বাড়ি ফিরলেন ফুলের মালা না কিনেই। গিন্নির মুখ ভার। অমঙ্গলের আশঙ্কায় গৃহস্থ বাড়িটি থমথমে হয়ে উঠল শ্রাবণের সোমবার। 

Advertisement

চাল‑ডাল কিনতে গিয়ে গৃহস্থের ত্রাহি ত্রাহি রব। আনাজে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। তার মধ্যে সামান্য ফুল কিনতে গিয়েও এই অবস্থা! নাকের জলে চোখের জলে হয়ে যাচ্ছে বাঙালি। আকন্দ খুব একটা দামি ফুল নয়। সাধারণত দাম থাকে পাঁচ টাকা। পুজো পার্বণে খুব বেশি হলে দশ। শিবরাত্রি, নীলষষ্ঠী এই বিশেষ দিনগুলি মালা বিক্রি হয় বড়জোর কুড়ি টাকায়। কিন্তু সেসব হিসেব এখন বাজারে গেলে মনে হয় মুঘল আমলের। সোমবার বাজারে সামান্য আকন্দ ফুলের মালার দাম গিয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন বাজারে দেখা গিয়েছে, অপরাজিতার মালার দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কাঁটা ফল (ধুতরোর ফল) প্রতি পিস ১৫ থেকে ২০ টাকা। ধুতরো ফুল ১০ থেকে ১৫ টাকা পিস। ছ’ফুটের একটি বেলপাতার মালা বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকায়। কুঁচো ফুল ২৫ থেকে ৩০ টাকা ছোট প্যাকেট।
দমদম রোডের তনয়া শ্রীমাণী বাজারে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘প্রতিবছর শ্রাবণ মাসের সোমবারগুলি পাড়ার শিবমন্দিরে বাবার মাথায় বেল ও আকন্দের মালা দি। কিন্তু দাম শুনে মালা কিনতে পারলাম না।’ ক্রেতারা শুধু নন, অভিজিৎ সামন্ত নামে এক খুচরো ফুল বিক্রেতা বলেন, ‘কলকাতার পাইকারি ফুলবাজারেও আকন্দের মালার দাম চড়া। আমাদের বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়েছে। ফলে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’ রাজেশ রায়, রাম সিং নমিতা মজুমদার নামে ফুল চাষিরা জানান, বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে ফুল নষ্ট হয়েছে। তাই আকন্দের দাম বেড়েছে।’ সারা বাংলা ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়েক বলেন, ‘প্রয়োজনের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকার কারণে দাম বেড়েছে আকন্দ সহ শিবের পুজোর ফুল-বেলপাতার।’ 
নিকুঞ্জবাবু একা নন। শোভাবাজারে এক ফুলের দোকানে আকন্দের মালা কিনতে গিয়ে অনিতা মুখোপাধ্যায় নামে এক গৃহবধূর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার দশা। অত টাকা সঙ্গে নেই বলে শিবকে দিতে শুধুমাত্র একটি ধুতরো ফুল ও বেলপাতা কিনে বাড়ি ফিরলেন। তাঁর মুখেও অমঙ্গলের ছায়া।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ