Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবান্ন উৎসবের মরশুমে খেজুর গুড়ের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ততা চরমে শিউলিদের

অঘ্রাণের শুরুতেই মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার পর্ব। নতুন ধানের আতপ চাল ও খেজুরের গুড় দিয়ে ঘরে ঘরে পালিত হচ্ছে নবান্ন উৎসব।

নবান্ন উৎসবের মরশুমে খেজুর গুড়ের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ততা চরমে শিউলিদের
  • ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ:  অঘ্রাণের শুরুতেই মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার পর্ব। নতুন ধানের আতপ চাল ও খেজুরের গুড় দিয়ে ঘরে ঘরে পালিত হচ্ছে নবান্ন উৎসব। আর নবান্ন উৎসবের এই বার্তায় শিউলিদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যস্ততা। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে বাড়ি, বাড়ি চলছে গুড় তৈরির কাজ। বাড়ির পুরুষ, মহিলা থেকে ছেলে,মেয়েদের এখন যেন নাওয়া খাওয়ার ফুরসত নেই। দিনরাত এক করে চলছে গুড় তৈরিরর পর্ব। ইতিমধ্যেই বাজারে আসতে শুরু করেছে খেজুর গুড়। স্বাভাবিকভাবেই খাদ্যরসিকদের প্রাণে এখন খুশির হাওয়া।  

Advertisement

ঠাণ্ডা পড়তেই শিউলি পাড়ায় ব্যস্ততা শুরু। বিকেলে খেজুর গাছে রসের হাঁড়ি লাগিয়ে ভোরে সেই গাছ থেকেই তা নামিয়ে বাড়ি নিয়ে আসেন শিউলিরা। এরপরে শুরু হয় ধীরে ধীরে রস ফুটিয়ে গুড় তৈরির প্রক্রিয়া। লোহার বড় কড়াইয়ে বেশ কয়েকটি হাঁড়ির রস ঢেলে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ফোটানোর পরে রসের ঘনত্ব বাড়ে এবং রং লালচে হতে শুরু করে। দক্ষ কারিগর কাঠি দিয়ে ফুটন্ত গুড় তুলে পরখ করে নেন। ঘনত্ব, স্বাদ ও গন্ধ ঠিক হলেই নামিয়ে নেওয়া হয়। 
মুর্শিদাবাদ থানার নশিপুরের বাসিন্দা মাধব হালদার হোসেন দালান এলাকায় প্রতি গাছ ২০০ টাকা হিসেবে ৫০টি খেজুর গাছ লিজ নিয়েছেন।  মাধব বলেন, এক কেজি ভালো মানের গুড় তৈরি করতে অন্তত ১০-১২ কেজি রস লাগে। অঘ্রান মাস জুড়ে বাংলার ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসব চলে। ফলে খেজুরের গুড়ের ভাল একটা চাহিদা থাকে। আর  শীতের মরশুমে খাঁটি গুড়ের চাহিদা থাকে। গুড় বিক্রি করে ভালোই লাভ হয়। 
ফুলবাগানের লিটন প্রামাণিক বলেন, ইদানিং অনেকে কম দামে গুড় চাইছেন। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেজাল গুড় বাজারে এনে কম দামে বেচছে। তাতেই আমাদের একটু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। 
ইছাগঞ্জের বাসিন্দা প্রদীপ মণ্ডল দু’দশকের বেশি সময় ধরে বাড়িতে খেজুর গুড় তৈরি করে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, এক কেজি খাঁটি খেজুর গুড় ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রি না করতে পারলে লাভ নেই। অনেকে আবার ১০০ টাকার বেশি দাম দিতেই চান না। তখন খরিদ্দার ধরতে ভেজাল মিশিয়ে গুড় তৈরি করছে অসাধু কারবারিরা। 
লালবাগের বাসিন্দা অরুপ পোদ্দার বলেন, নবান্ন উৎসব দিয়ে বাঙালির ঘরে ঘরে খেজুর গুড়ের যাত্রা শুরু হয়। সারা শীতকাল ধরে রকমারি পিঠে, পায়েস সহ বিভিন্ন মিষ্টান্ন খেজুর গুড় ছাড়া ভাবাই যায় না। তবে ভাল মানের গুড় ছাড়া স্বাদে খামতি থেকে যায়। লালবাগের এক মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী বলেন, শীতে মিষ্টির স্বাদ ঠিক রাখার জন্য শিউলি পাড়ায় গিয়ে বরাত দিতে হয়।   -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ