যে পথে যান উমা, সে পথেই আসেন শ্যামা...। সোমবার শক্তি আরাধনায় শামিল হবে গোটা বাংলা। বারাসত, নৈহাটিতে উপচে পড়বে উৎসবপ্রিয় বাঙালি। তার ঠিক আগে শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দুই প্রধানের মর্যাদার লড়াই। অতীতেও কালীপুজো এবং দীপাবলির আগে-পরে মুখোমুখি হয়েছে মোহন বাগান-ইস্ট বেঙ্গল।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীপাবলীর বেশি দেরি নেই। আলোর উৎসবে মাতবে শহর। গল্ফগ্রিনে সুব্রত ভট্টাচার্যের বাড়িতেও রঙের মায়াজাল। শনিবার আইএফএ শিল্ডে মহারণ। উৎসবের মরশুমে পাল্লা ভারি কাদের? সুব্রতর জবাব, ‘বড় ম্যাচের পালস আলাদা। তবে মোলিনার দলে গেমচেঞ্জার বেশি। এটুকুই যা সুবিধা।’
কালীপুজোর আবহে বড় ম্যাচের সংখ্যা কম নয়। একটা সময় পুজোর পরেই ডুরান্ড কাপের দামামা বেজে যেত। নভেম্বরের রাজধানীতে ডুরান্ড ঘিরে তখন সাজ সাজ রব। পাহাড়গঞ্জ, দরিয়াগঞ্জের গলিতে ফুটবল নিয়ে তুমুল চর্চা। সুব্রতর স্মৃতিতে উজ্জ্বল ১৯৮৬’র ডুরান্ড ফাইনাল। সেবার দেবাশিস রায়ের গোলে ইস্ট বেঙ্গলকে হারিয়ে খেতাব জেতে মোহন বাগান। স্মৃতিমেদুর সুব্রত বললেন, দুর্দান্ত অনুভূতি। রাজধানীর রাজপথ ছিল সমর্থকদের দখলে। অনেক রাত পর্যন্ত টিম হোটেলের সামনে বাজি ফাটায় সমর্থকরা।’ উল্লেখ্য, আইটিআইকে ৭-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় মোহন বাগান। সেমি-ফাইনালে রিপ্লে ম্যাচে জেসিটি বধ করে ফাইনালে অমল দত্তের দল। এই ম্যাচেও লক্ষ্যভেদ সেই দেবাশিস রায়ের। প্রাক্তন সতীর্থকে বড় সার্টিফিকেট দিলেন সুব্রত।
ডুরান্ড কাপের এই ম্যাচটি ৯ নভেম্বর হয়। কালীপুজোর ৭ দিন পর ম্যাচ। ইস্ট বেঙ্গলের সেবার অধিনায়ক তরুণ দে। কোচ শ্যাম থাপা। স্কোয়াডে এমেকা এজুগো, চিবুজারের মতো ফুটবলার। স্মৃতিতে ডুব দিয়ে সুব্রত বলে ওঠেন, ‘মোহন বাগান তখনও বিদেশিহীন। তবে শিশির-বাবু মানিরা লড়েছিল বাঘের মতো। কোনও পার্থক্য বুঝতে দেয়নি। এমেকারা সুবিধা করতে পারেনি এতটুকু।’ ছাইদানিতে আধপোড়া সিগারেট গুঁজে তাঁর সংযোজন, ‘দ্বিতীয়বারের জন্য সেবার ডুরান্ড জয়ের হ্যাটট্রিক করে মোহন বাগান। অসাধারণ অনুভূতি। আসলে দু’দলের পার্থক্য গড়ে দিয়েছিল তাগিদ। ট্রফি জেতা সবসময় তৃপ্তির। ইস্ট বেঙ্গলকে হারিয়ে শিরোপা জেতায় ষোলো কলা পূর্ণ।’ অবসরের এত বছর পরেও বাবলুর গলায় ডার্বির উত্তাপ।