Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শতবর্ষে সিমলা ব্যায়াম সমিতি, সাত সমুদ্র পেরিয়ে এখনও ফল আসে মা দুর্গার জন্য

রামরতনের ধারণা, সে একটুর জন্য নেতাজিকে মিস করে গিয়েছে। রামরতন সিং। বাড়ি বিহারে। এখানে থাকেন গিরিশ পার্কে। বুধবার সন্ধ্যায় ফুটপাতে বসে অমর পালের গলায় ‘গিরি এবার উমা এলে আর উমা পাঠাব না’ শুনছিলেন মোবাইলে।

শতবর্ষে সিমলা ব্যায়াম সমিতি, সাত সমুদ্র পেরিয়ে এখনও ফল আসে মা দুর্গার জন্য
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কলহার মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : রামরতনের ধারণা, সে একটুর জন্য নেতাজিকে মিস করে গিয়েছে। রামরতন সিং। বাড়ি বিহারে। এখানে থাকেন গিরিশ পার্কে। বুধবার সন্ধ্যায় ফুটপাতে বসে অমর পালের গলায় ‘গিরি এবার উমা এলে আর উমা পাঠাব না’ শুনছিলেন মোবাইলে। 

Advertisement

স্থানমাহাত্ম্য একেই বলে। সিমলার বাসিন্দা বলেই কি হিন্দিভাষী রামরতনকেও আচ্ছন্ন করে রাখে উমার আসার খবর? এখানে থাকেন বলেই কি নেতাজিকে নিয়েও ফ্যান্টাসি রিকশচালক রামরতনের। তাঁকে পাশ কাটিয়ে ঢুকলে সিমলা ব্যায়াম সমিতির মাঠ। প্যান্ডেল হচ্ছে। পাশে পুজো কমিটির অফিস ঘর। কয়েকটি টিউবলাইট জ্বলছে। উজ্জ্বল আলোর নীচে দেওয়ালে টাঙানো নেতাজির একাধিক ছবি। অফিস ঘরে কর্মকর্তারা ঠাকুরের পুজোর ফর্দ মেলাতে ব্যস্ত। ১০০ বছর আগের নিয়ম এখনও অক্ষরে অক্ষরে মেনে পুজো করে সিমলা ব্যায়াম সমিতি। পুজোর উপদেষ্টা রবীন্দ্রনাথ দাঁ বলেন, ‘এখন ভক্তির পথ থেকে সরে আসছে বহু পুজো। এ প্রবণতা বন্ধ হোক।’ সে ফর্দে চোখ পড়লেই চোখ কপালে। এমনিতেই পুজোয় সিমলার নৈবেদ্য দেখলে চোখ ট্যারা হয়ে যায়। এক মণ চালের নৈবেদ্য দেওয়ার নিয়ম। তার সঙ্গে ফলমূল-অন্যান্য খাবারদাবার মালসায় থাকে। সে এলাহি ব্যাপার। আর চোখ কপালে কেন? কারণ, বিদেশি ফল ছাড়া সিমলা ব্যায়াম সমিতিতে পুজো হয় না দুর্গার। 
ফর্দে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার আঁশফল। নিউজিল্যান্ডের জামরুল। ইংল্যান্ডের পেয়ারা। এছাড়া আঙুর, আপেল, ব্ল্যাকবেরি আসে নিউজিল্যান্ড থেকে। আসে লাল রঙের তাল। এবং অসময় হলেও রাখতে হবেই বাংলার কাঁঠাল, তাল এবং বেল। নতুনবাজারে বাঁধা ফলওয়ালা আছেন। সাতসমুদ্র পার করে ফলফলাদি জোগাড় করে আনেন তিনিই। এ উপকরণ ব্যতিরেকে পুজো নাস্তি। সিমলার পুজোর এমনই মাহাত্ম্য। সাধে কি আর বাংলার আগমনি শোনার পর বিহারের রামরতনের চোখ দিয়ে জল গড়ায়!
সিমলা এবার শতবর্ষে। দুর্গাপুজোর ইতিহাস লিখতে বসলে সিমলা চলে আসবে প্রথম অনুচ্ছেদেই। এখানকার দুর্গা খাদি পরতেন। বাঘা যতীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ঋষি অরবিন্দের স্নেহধন্য ছিলেন বিপ্লবী অতীন্দ্রনাথ বসু। ১৯২৬ সালে সিমলা ব্যায়াম সমিতি প্রাঙ্গণে দুর্গোৎসব শুরু করেছিলেন তিনি। এই পুজোকে কেন্দ্র করে বিপ্লবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন সুভাষচন্দ্র বসু। সেই পুজোর শতবর্ষের বিবর্তনই এবার বিষয়ভাবনার মূল উপজীব্য। নাম ‘স্বদেশীয়ানার বিপ্লবতীর্থ’। শিল্পী, শুভদীপ ও সুমি মজুমদার এবং তৃষা দত্ত। প্রতিমায় সনাতন রুদ্র পাল। কাটোয়ার বাদক সত্যবান দাস ঢাক বাজাতে আসেন। সিঁদুর খেলায় প্রতীকী কারণে রাখা হয় সাবিত্রী-সত্যবানকে। প্রতিমা বিসর্জন ক্লাব সদস্যদের কাঁধে চেপে। 
মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আবার দেখা রামরতনের সঙ্গে। ১৯৪১ সালে নেতাজির অন্তর্ধান। রামরতনের জন্ম ১৯৫১ সালে। তাই তাঁর ধারণা, একটুর জন্য নেতাজিকে মিস করে গিয়েছেন। একটু আগে জন্মালেই জমিয়ে দেশের জন্য যুদ্ধ করতে পারতেন। নেতাজির সঙ্গে থাকলে কুছু নামডাক ভি তো হোতো।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ