নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের ঘরের সামনে ‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে সারা বাংলা তৃণমূল শিক্ষাবন্ধু সমিতি। সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার সদস্যরা বুধবার দুপুর থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যান। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে বলে সমিতির সদস্যরা জানিয়েছেন।
তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি ও স্থায়ীকরণের বিষয়টি বিবেচনার জন্য ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ভাস্কর বিশ্বাসের গড়ে দেওয়া কমিটির কিছু সদস্য কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই কমিটির সদস্য তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের একাংশের আপত্তিতে ওই দাবি ঝুলে আছে। সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রণজিত্ রায়ের কথায়, গত পাঁচ মাস আমরা অপেক্ষা করেছি। এখন নাকি কমিটির সদস্যরা বৈঠক করবেন না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে। তবে পঠনপাঠন আন্দোলনের বাইরে থাকছে। জরুরি পরিষেবাগুলিও সচল থাকবে। এদিকে, কমিটির সদস্যদের একাংশর প্রশ্ন, রাজ্য সরকার বা উচ্চ শিক্ষাদপ্তরের অনুমতি নিয়ে কি এই কমিটি গঠিত হয়েছে? বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি ও স্থায়ীকরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গত ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন মহেন্দ্রনাথ রায়কে চেয়ারম্যান করে ১১ জনের একটি কমিটি গঠিত হয়। যেখানে বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক, জয়েন্ট রেজিস্ট্রার, ডেপুটি ফিনান্স অফিসার থেকে শুরু করে একাধিক আধিকারিক আছেন। অধ্যাপক অর্ধেন্দু মণ্ডল গত ২২ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে মেইল করে কমিটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদন নিয়েছে কি না, তা জানতে চান। তাঁর বক্তব্য, দুই-তিনজন বাদে কমিটির সকল সদস্যই এই কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। এই কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কমিটির অনেকে। আর এতেই চটেছেন সারা বাংলা তৃণমূল শিক্ষাবন্ধু সমিতির বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার সদস্যরা।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কমিটির চেয়ারম্যান মহেন্দ্রনাথ রায় ‘একটু ব্যস্ত আছি’ বলে ফোন কেটে দেন। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ফোন রিসিভ করেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি।
উপাচার্যহীন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ডামাডোল চলছে। ২০১৯ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কর্মীদের বেতন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে রাজ্য। তারপর থেকে বিপুল সংখ্যক অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা ‘ভাঁড়ে মা ভবানী’। এই কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার পরিকল্পনা নিলেও তা ভেস্তে যায়। জুলাই মাসে অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি ও স্থায়ীকরণের দাবিতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে স্মারকলিপিও দিয়েছিল সংগঠনটি। - নিজস্ব চিত্র।