Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁথিতে শিক্ষকের বদলির নির্দেশনামা নিয়ে স্কুলে এসে তালাবন্দি শিক্ষাবন্ধু

কাঁথিতে শিক্ষকের বদলির নির্দেশনামা নিয়ে স্কুলে এসে তালাবন্দি শিক্ষাবন্ধু
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: শিক্ষকের বদলির নির্দেশিকা কপি নিয়ে স্কুলে এসে অভিভাবকদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন শিক্ষাবন্ধু। ওই শিক্ষাবন্ধুকে স্কুলের অফিসে ঢুকিয়ে তালাবন্ধ করে রাখা হয়। ফলে শিক্ষক-শিক্ষিকারাও আটকে পড়েন। মঙ্গলবার সকালে কাঁথি হিন্দু গার্লস প্রাইমারি স্কুলে ওই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিভাবকদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে স্কুল চত্বর। খবর পেয়ে কাঁথি থানার পুলিস গিয়ে ঊষা জানা নামে ওই শিক্ষাবন্ধুকে উদ্ধার করে। এদিনের বিক্ষোভে স্কুলে পঠনপাঠন এবং মিড-ডে মিল হয়নি। কাঁথি শহর ও গ্রামীণ এলাকায় হুটহাট করে প্রাইমারি শিক্ষকদের বদলি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে শিক্ষকদের একটা বড় অংশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। এদিন অভিভাবকরা এই ইস্যুতে বিক্ষোভ দেখান।

Advertisement

কাঁথির একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হল কাঁথি হিন্দু গার্লস প্রাইমারি স্কুল। এখানে পড়ুয়ার সংখ্যা ২০৬। শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ১০ জন। যদিও একজন শিক্ষক শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্কুলে আসছেন না। গত ২৮ জানুয়ারি ওই স্কুলের সহ শিক্ষক অমৃতময় সিংহকে শেরপুর গিরিপাড়া প্রাইমারি স্কুলে বদলি করা হয়। ওই স্কুলে তিনি জয়েন না করায় গত ১৮ মার্চ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অর্ডার করে তাঁকে দূরবর্তী মুণ্ডপাড়া প্রাইমারি স্কুলে বদলি করা হয়। সেই স্কুলেও অমৃতময়বাবু যোগ দেননি। এই অবস্থায় মঙ্গলবার কন্টাই নিউ সার্কেল অফিস থেকে ওই শিক্ষকের রিলিজ অর্ডার নিয়ে শিক্ষাবন্ধু মর্নিং সেকশনে চলা ওই স্কুলে হাজির হন। তিনি রিলিজ অর্ডার নিয়ে এসেছেন জানা মাত্রই অভিভাবকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা জোটবেঁধে প্রতিবাদ জানান। শিক্ষাবন্ধুকে অফিস ঘরে আটকে রেখে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ওই শিক্ষককে ছাড়া হবে না বলে স্লোগান দেওয়া হয়।
জেলা প্রাইমারি বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি হলেন হাবিবুর রহমান। যদিও তৃণমূলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলা প্রাইমারি শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি দীপককুমার মণ্ডল তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর বলে পরিচিত। 
এই অবস্থায় অধিকাংশ শিক্ষক দুই শিবিরে ভাগ হয়ে গিয়েছেন। অভিযোগ, দীপকবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলা শিক্ষকদের বেছে বেছে বদলি করা হচ্ছে। কাঁথি হিন্দু গার্লস প্রাইমারি স্কুলের সহ শিক্ষক অমৃতময়বাবু একজন সিনিয়র শিক্ষক। ওই স্কুলে তাঁর পরে আরও দু’জন সহ শিক্ষক জয়েন করেছেন। তাহলে কেন তাঁদের এড়িয়ে অমৃতময়বাবুকেই বদলির নির্দেশ? এনিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বয়ং ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরিজিৎ পণ্ডা।
এদিন পুলিসের হস্তক্ষেপে ঘেরাও মুক্ত হওয়ার পর শিক্ষাবন্ধু ঊষাদেবী বলেন, এখানে এসে মনে হয়েছে, শিক্ষক, জেলা বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি এবং অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের মধ্যে একটা ইগোর লড়াই রয়েছে। আমি এই স্কুলেরই ছাত্রী ছিলাম। এখানে এসে এরকম একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে খুবই খারাপ লাগছে। প্রধান শিক্ষক অরিজিৎবাবু বলেন, আলাপ আলোচনা ছাড়া একজন সহ শিক্ষককে তুলে নেওয়ার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে অভিভাবকরা স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তারজন্য ক্লাস হয়নি। মিড-ডে মিলও বন্ধ ছিল।
স্থানীয় অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক চিরঞ্জিত সাঁতরা বলেন, আমাদের বেশকিছু স্কুলে ছাত্রছাত্রী অনুপাতে শিক্ষক সংখ্যা কম। অবসর নেওয়ার পর কোনও কোনও স্কুল একজন মাত্র শিক্ষক হয়ে যাচ্ছে। তখন আমাদের বদলি করতেই হয়। এই বদলির পিছনে অন্য কোনও কারণ নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ