সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: পুরসভার ট্যাপকলে কালো জলের সমস্যা পিছু ছাড়ছে না খড়্গপুরের। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যায় ভুগছেন বাসিন্দারা। তাঁরা বলেন, শহরের বেশ কিছু এলাকায় ট্যাপকল দিয়ে কালো জল পড়ছে। সেই জল ব্যবহার করতে পারছেন না বাসিন্দারা। ফলে তাঁদের দূর থেকে জল বয়ে আনতে হচ্ছে। অনেককে জল কিনে খেতে হচ্ছে। বাসিন্দারা বলেন, একেই মাসে ৩৫ টাকা জলকর দিয়ে বাড়িতে জলের সংযোগ নিতে হয়েছে। তার ওপর মাঝে মধ্যেই টাকা দিয়ে পাইপ পরিষ্কার করাতে হচ্ছে। তবুও সমস্যা মিটছে না। কবে এই কালো জল থেকে বাসিন্দারা মুক্তি পাবেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুরকর্তৃপক্ষও। চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, কেন কালো জল আসছে তা কোনওভাবেই বোঝা যাচ্ছে না। পুরনো পাইপে মরচে ধরে এই রকম জল আসতে পারে। কিছু পাইপ বদল করার কথা ভাবা হয়েছে।
Advertisement
শহরের ৮, ৯, ১১, ১৪, ১৭, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড সহ পাশাপাশি এলাকায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বাসিন্দারা বলেন, বছরের পর বছর একই সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। কিন্তু কোনও সমাধান হচ্ছে না। কাউন্সিলার, চেয়ারম্যান সবাইকে জানিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন কাঁসাই নদী থেকে তো মেদিনীপুর পুরসভাও জল উত্তোলন করে। কিন্তু তাদের ওখানে তো এই সমস্যা নেই। তাহলে খড়্গপুর শহরে হচ্ছে কেন? তাঁদের মতে পুরসভা গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টা দেখছে না। বুধবার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিধানপল্লি এলাকায় অবশ্য পাইপ লাইন কেটে পরিষ্কার করা হয়। ওই এলাকার বাসিন্দা জগদীশ শ্রীবাস্তব বলেন, প্রায় দিনই ট্যাপকলে কালো জল আসছে। সেই জল কোনওভাবেই ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কেন এই রকম জল আসছে, তা নিয়ে পুরসভা কিছুই বলতে পারছে না। মালঞ্চ এলাকার বাসিন্দা দ্বিজেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, শুধু কালো জলই নয়। মাঝে মাঝেই নোংরা জল আসে। পচা দুর্গন্ধ ছাড়ে। বাধ্য হয়ে কুয়োর জল পরিশুদ্ধ করে পান করতে হচ্ছে। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলার পারমিতা ঘোষ বলেন, সমস্যা দীর্ঘদিনের। বাসিন্দারা এসে অভিযোগ করছেন। পুরসভাকে জানিয়েছি। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলার রীতা শর্মা বলেন, এলাকার কিছু এলাকায় কালো জল আসছে। কেন আসছে কিছুই বুঝতে পারিছ না। পুরসভাকে অনেকবার জানানো হয়েছে।



