নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শহর এলাকায় বেকারত্বের হারে শীর্ষে চারটি রাজ্য এবং দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। এর মধ্যে পাঁচটিই ডাবল ইঞ্জিন চালিত। অর্থাৎ বিজেপি শাসিত। এই ছ’টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেই নাগরিক বেকারত্বের হার ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। এমনই ‘বিস্ফোরক’ তথ্য উঠে এল খোদ মোদি সরকারেরই লেবার ফোর্স সার্ভেতে। কেন্দ্রের এই সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রায় সব রাজ্যেই বিগত কিছু মাস ধরে শহর এলাকায় বেকারত্বের হার সামান্য হলেও কমছে। শুধু ব্যতিক্রম অসম, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, জম্মু ও কাশ্মীর এবং দিল্লি। এই ছ’টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ৯ মাসে নগরকেন্দ্রিক বেকারত্ব সবথেকে বেশি। এর মধ্যে অসম, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানায় এখনও বিজেপির সরকার। জম্মু ও কাশ্মীরে কয়েকমাস আগে পর্যন্ত ছিল সরাসরি কেন্দ্রের অধীনে। আর দিল্লিতে সদ্য ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। সমীক্ষা বলছে, চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে অসমের নগর এলাকার বেকারত্বের হার ২৭.৫ শতাংশ। আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। মধ্যপ্রদেশে তৃতীয় ত্রৈমাসিকে নাগরিক বেকারত্বের হার ১৫ শতাংশ। হরিয়ানায় ১৩ শতাংশ। বিহারে ২৬ শতাংশ। জম্মু ও কাশ্মীরে সবথেকে বেশি, ৩৫ শতাংশ। দিল্লিতে ৫ শতাংশ। একমাত্র দিল্লিতে কয়েকদিন আগে পর্যন্ত ছিল আম আদমি পার্টির সরকার। প্রশ্ন উঠতে পারে, জম্মু-কাশ্মীরে এখন তো ন্যাশনাল কনফারন্সের জোট সরকার চলছে? কিন্তু সেই সরকার সবেমাত্র ক্ষমতাসীন। তার আগে, ২০১৯ সাল থেকেই এই রাজ্য কেন্দ্রশাসিত। সুতরাং সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ অবলুপ্ত করে জম্মু-কাশ্মীরে উন্নয়নের জোয়ার আনা হয়েছে, মোদি সরকারের এই দাবি ধোপে টিকছে না। একমাত্র দিল্লির কর্মহীনতার দায় চাপানো যায় আম আদমি পার্টির উপর। যদিও দিল্লি পূর্ণ রাজ্য নয়, স্বরাষ্ট্র হোক অথবা অর্থ সবকিছুর জন্য নির্ভর করে থাকতে হয় কেন্দ্রের উপর। কেন্দ্র আর্থিক অনুদান আটকে দিলেই দিল্লির উন্নয়ন বন্ধ, যেটা বস্তুত আম আদমি পার্টি এতদিন বলে এসেছে।
Advertisement
শহরাঞ্চলে যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিয়ে এই সমীক্ষা নিয়ম করে প্রতিটি ত্রৈমাসিকে করা হয়। তার পোশাকি নাম কেন্দ্রীয় পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে। সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্য জমা পড়ে নীতি আয়োগ, অর্থমন্ত্রক, বাণিজ্য মন্ত্রকে। নাগরিক যুবসমাজ তাদেরই বলা হচ্ছে, যাদের বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ, যে বয়সে তরুণ প্রজন্ম কর্মজগতে প্রবেশ করে। সমীক্ষা দেখাচ্ছে, একেবারে এন্ট্রি লেভেলেই (প্রাথমিক স্তরেই) বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে এই এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলিতে।



