নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: শীতের দুপুরে আলসেমি গায়ে মেখে গৃহবধূরা উল-কাঁটা নিয়ে রোদে বসেছেন। গ্রামের দিকে এই দৃশ্য স্বাভাবিক হলেও, হঠাৎ করেই শহরেও উল বোনার রেওয়াজ বাড়ছে। মহিলারা ইউটিউব দেখে উল বোনা শিখছেন। মুর্শিদাবাদ জেলার লালবাগ ও বহরমপুর শহরে অনেকেই ভিড় জমিয়েছেন উলের দোকানে।
Advertisement
জেলাজুড়ে শীতের দাপট শুরু হয়েছে। তাপমাত্রা নেমেছে ১৫ ডিগ্রির নীচে। সন্ধের পর থেকে উত্তুরে হওয়ার দাপটে মানুষ রাস্তায় কম বেরচ্ছেন। এই মরশুমে মহিলারা নিজের জন্য বা প্রিয়জনদের জন্য হাতে বুনছেন উলের গরম পোষাক। আধুনিকতার বাজারে নিত্যনতুন ফ্যাশনের মাঝে এখনও টিকে রয়েছে হাতে তৈরি শীত পোশাকের রেওয়াজ। তাই তো শীত পড়তেই বাজারে চাহিদা বেড়েছে উলের। বহরমপুর শহরের ফুটপাতে বিভিন্ন রকমের উলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। শহরে উলের বিক্রি বাড়ছে। আগে অধিকাংশ ক্রেতা গ্রামের হলেও, এখন শহুরে মহিলারাও উলের পোশাক বানাচ্ছেন। এমনটাই দাবি উল ব্যাবসায়ীদের।
বহরমপুরের গির্জামোড়ের কাছে উল বিক্রেতা তপন চৌধুরী বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে উলের ব্যবসা করি। এই শীতের সময়ে প্রতিবার জেলার বিভিন্ন প্রান্তের গ্রামীণ এলাকা থেকে উল কিনতে আসেন অনেকেই। তবে এবছর শহুরে মহিলারা বেশি উল কিনছেন। ইউটিউব দেখে অবসরে উল বুনছেন বধূরা। ৩০০ টাকা থেকে উলের দাম শুরু। ৫০০ টাকা কেজি দরেরও উল পাওয়া যায়। সরু মোটা বিভিন্ন ধরনের উল আছে। যার যেমন প্রয়োজন তেমন কিনছেন। সারা বছর তেমন বিক্রি না হলেও, এই শীতের তিন মাস আমরা ভালোই বিক্রি করি। উলের পাশাপশি বিভিন্ন ধরনের কাঁটাও রেখেছি।
লালবাগের আয়েশবাগের বাসিন্দা পিন্টু শেখ বলেন, এখন অনেকেই উল বোনার সুযোগ পায় না। তবে আমাদের বাড়িতে উল বোনার রেওয়াজ আছে। প্রতিবারই উল কেনা হয়। বাড়িতে মহিলারা বিভিন্ন উলের পোশাক বানিয়ে দেন। তাই এবার ছয়-সাত রঙের উল কিনলাম।বহরমপুরের গির্জামোড়ের কাছে উল বিক্রেতা তপন চৌধুরী বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে উলের ব্যবসা করি। এই শীতের সময়ে প্রতিবার জেলার বিভিন্ন প্রান্তের গ্রামীণ এলাকা থেকে উল কিনতে আসেন অনেকেই। তবে এবছর শহুরে মহিলারা বেশি উল কিনছেন। ইউটিউব দেখে অবসরে উল বুনছেন বধূরা। ৩০০ টাকা থেকে উলের দাম শুরু। ৫০০ টাকা কেজি দরেরও উল পাওয়া যায়। সরু মোটা বিভিন্ন ধরনের উল আছে। যার যেমন প্রয়োজন তেমন কিনছেন। সারা বছর তেমন বিক্রি না হলেও, এই শীতের তিন মাস আমরা ভালোই বিক্রি করি। উলের পাশাপশি বিভিন্ন ধরনের কাঁটাও রেখেছি।
উল কিনতে এসে এক মহিলা বলেন, এখন ইউটিউব দেখে উল বোনা শিখছি। দুপুরের দিকে একটু অবসর সময়ে উল বুনতে ভালোই লাগে। বাচ্চাদের জন্য মাফলার বুনছি। এরপর হাফ হাতা সোয়েটার বানানোর চেষ্টা করব।
বহরমপুরের বাসিন্দা অন্তরা বর্মন বলেন, সাধারণত অবসর সময় বই পড়ি। কিন্তু শীতের দুই মাস শখে উল বুনি। গত বছর থেকে উল বোনা শুরু করেছি। খুবই ভালো লাগছে। এবার বরের জন্য একটা সোয়েটার বানানোর চেষ্টা করছি। তাই দুই রংয়ের উল কিনতে এলাম।



