Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শহিদ মাতঙ্গিনীর স্কুলে সারপ্রাইজ ভিজিট প্রশাসনের, আজ প্রধান শিক্ষিকাকে তলব

শহিদ মাতঙ্গিনীর স্কুলে সারপ্রাইজ ভিজিট প্রশাসনের, আজ প্রধান শিক্ষিকাকে তলব
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: স্কুলে উপস্থিত পড়ুয়ার সংখ্যা ৭৩জন। মিড ডে মিলের রিপোর্টে হয়ে যাচ্ছে ১৬৮। একদিন কিংবা দু’দিন নয়, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ডুমরা প্রাইমারি স্কুলে প্রতিদিন উপস্থিত ছাত্রছাত্রী সংখ্যা বাড়িয়ে মিড ডে মিল বিভাগে রিপোর্ট পাঠানোর অভিযোগে সারপ্রাইজ ভিজিট সারলেন পিএম পোষণ প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট অফিসার সৌরভ মিত্র। ৬নভেম্বর ওই অফিসার যেতেই স্কুলের সহশিক্ষক, শিক্ষিকা থেকে অভিভাবক মিড ডে মিলে অনিয়মের গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন। পাঁচজন সহ শিক্ষক লিখিতভাবে জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন, প্রতিদিন স্কুলে উপস্থিত ছাত্রছাত্রী সংখ্যা বাড়িয়ে মিড-ডে মিল বিভাগের এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। এভাবেই সরকারি অর্থ নয়ছয় হচ্ছে। গোটা ঘটনায় প্রধান শিক্ষিকা জড়িত। গোটা ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে ১১নভেম্বর সোমবার ওই স্কুলের প্রধান রাখী কাপড়ি মণ্ডলকে ডিএম অফিসে তলব করা হয়েছে।
Advertisement
ডুমরা প্রাইমারি স্কুলে মোট ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ১৭৮। প্রি-প্রাইমারিতে ২৯জন। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ১২৩জন। পঞ্চম শ্রেণিতে রয়েছে ২৬জন। মোট শিক্ষক শিক্ষিকা ছ’জন। প্রতিদিন স্কুলে প্রার্থনার সময় উপস্থিত মোট ছাত্রছাত্রীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তারপর প্রতিটি ক্লাস টিচার হাজিরা খাতায় উপস্থিতি নথিভুক্ত করেন। তারপর ছাত্রছাত্রীদের সেই হাজিরা খাতা পৌঁছায় প্রধান শিক্ষিকার টেবিলে। আড়াই নাগাদ স্কুল থেকে ছাত্রছাত্রীদের ওইদিনের মোট উপস্থিতি এসএমএস করে প্রধান শিক্ষিকা পাঠান মিড ডে মিল সেকশনে। সেই মেসেজ পাঠানোর আগেই হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত পড়ুয়াদের উপস্থিত দেখানোর কাজ সেরে ফেলা হয়। ক্লাস টিচাররা গরহাজির পড়ুয়াদের নামের পাশে ‘ফুলস্টপ’ বসিয়ে দিলেও টিফিন আওয়ারে সেটাই পরিবর্তন হয়ে ‘পি’(অর্থাৎ প্রেজেন্ট) হয়ে যাচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ধারাবাহিকভাবে ওই স্কুলে এই ঘটনায় অভিভাবক থেকে সহ শিক্ষক শিক্ষিকারা ক্ষুব্ধ। শিশুদের জন্য বরাদ্দ খাবারের অর্থ নয়ছয় হচ্ছে বলে অভিযোগ। ৫নভেম্বর প্রার্থনার সময় স্কুলে উপস্থিত ছিল ৭৩জন। ক্লাস টিচাররা অ্যাটেনডেন্স নেওয়ার সময়ও ওই সংখ্যা ছিল। কিন্তু, মিড মেড মিলে এসএমএস পাঠানোর সময় সেটা বেড়ে হয় ১৬৮। একইভাবে ২১অক্টোবর স্কুলে মোট উপস্থিত পড়ুয়া সংখ্যা ছিল ৭৮। কিন্তু, মিড ডে মিল মেসেজে জানানো হয় ১৬২। ২২তারিখ মোট উপস্থিতি ছিল ১২৮জন। দেখানো হয় ১৬৫জন।
গত ৫নভেম্বর ওই স্কুলে মিড ডে মিলে অনিয়ম নিয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) নেহা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ জমা পড়ে। তারপর ৬তারিখ সারপ্রাইজ ভিজিট হয়। প্রশাসন ওই ঘটনায় কঠিন পদক্ষেপ নিতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। ভিলেজ এডুকেশন কমিটির(ভিইসি) সভাপতি অর্ধেন্দু মাইতি বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে সারপ্রাইজ ভিজিট হয়েছে। সোমবার প্রধান শিক্ষিকাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে জেনেছি। মঙ্গলবার আমি ওই স্কুলের সকল শিক্ষক শিক্ষিকাকে নিয়ে মিটিং করব। কোথায় সমস্যা হচ্ছে সেটা মেটানোর চেষ্টা হবে। স্কুলের সহ শিক্ষিকা সোনালি সামন্ত বলেন, পিএম পোষণের ডিস্ট্রিক্ট অফিসার এসেছিলেন। আমরা প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেছি। প্রধান শিক্ষিকা রাখী কাপড়ী মণ্ডল বলেন, ভিজিটের সময় আমি স্কুলে ছিলাম না। তখন ব্যাঙ্কে গিয়েছিলাম। মিড ডি মিল নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে সবটা ঠিক নয়। সোমবার ডিএম অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সবটা জানাব।
সম্পর্কিত সংবাদ