Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে মিড-ডে মিলের হিসেবে অনিয়ম শো-কজ প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে

শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে মিড-ডে মিলের হিসেবে অনিয়ম শো-কজ প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: হাইটেক পদ্ধতিতে স্কুলে না আসা পড়ুয়াদের উপস্থিত দেখিয়ে মিড-ডে মিলের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগে সোমবার ডিএম অফিসে হাজিরা দিলেন শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ডুমরা প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রাখী কাপড়ী মণ্ডল। এদিন বেলা ১টা নাগাদ তিনি পিএম পোষণ প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ইনচার্জেরঅফিসে হাজির হন। ৬ নভেম্বর ওই স্কুলে সারপ্রাইজ ভিজিটে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে ওই প্রধান শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসা করেন ডিস্ট্রিক্ট অফিসার সৌরভ মিত্র। প্রধান শিক্ষিকা ওই ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। স্কুলের অন্য কেউ এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলে তিনি দাবি করেন। তাঁকে নিজের বক্তব্য লিখিতভাবে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই প্রধান শিক্ষিকাকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, ডুমরা প্রাইমারি স্কুলের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। অনিয়ম হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
উল্লেখ্য, ডুমরা প্রাইমারি স্কুলে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৭৮। প্রি-প্রাইমারিতে ২৯জন। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ১২৩জন। পঞ্চম শ্রেণিতে রয়েছে ২৬জন। মোট ছ’জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। প্রতিদিন স্কুলে প্রার্থনার সময় উপস্থিত মোট ছাত্রছাত্রীর হিসেব নেওয়া হয়। এছাড়া ক্লাস শুরু হওয়ার পর প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে ক্লাস টিচার হাজিরা খাতায় উপস্থিতি নথিভুক্ত করেন। ছাত্রছাত্রীদের সেই হাজিরা খাতা পৌঁছয় প্রধান শিক্ষিকার টেবিলে। আড়াইটা নাগাদ স্কুল থেকে ছাত্রছাত্রীদের ওইদিনের মোট উপস্থিতি এসএমএস করে প্রধান শিক্ষিকা পাঠান মিড ডে মিল সেকশনে। সেই মেসেজ পাঠানোর আগেই হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত পড়ুয়াদের উপস্থিত দেখানোর কাজ সেরে ফেলা হয়। ক্লাসটিচাররা গরহাজির পড়ুয়াদের নামের পাশে ‘ফুলস্টপ’ বসিয়ে দিলেও টিফিন আওয়ারে সেটাই পরিবর্তন হয়ে ‘পি’ (অর্থাৎ প্রেজেন্ট) হয়ে যাচ্ছে।
ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিত পড়ুয়াদের উপস্থিত দেখিয়ে মিড ডে মিলের টাকা নয়ছয় হচ্ছে বলে অভিযোগ। উপযুক্ত তথ্য সহ গত ৫নভেম্বর অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) নেহা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ জমা পড়ে। তিনি দ্রুত স্কুলে ভিজিট করার জন্য পিএম পোষণ প্রকল্পের ইনচার্জকে নির্দেশ দেন। সেইমতো ৬নভেম্বর স্কুলে ভিজিট হয়। সেখানে স্কুলের সহ শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে অভিভাবক অনেকেই এই কারচুপির ঘটনা তুলে ধরেন। ৫নভেম্বর স্কুলে ৭৩জন পড়ুয়া উপস্থিত ছিল। মিড ডে মিলে রিপোর্ট হয়েছে ১৬৮। তার আগে ২১অক্টোবর স্কুলে মোট উপস্থিত পড়ুয়া সংখ্যা ছিল ৭৮। কিন্তু, মিড ডে মিল মেসেজে জানানো হয় ১৬২। ২২অক্টোবর মোট উপস্থিতি ছিল ১২৮জন। দেখানো হয় ১৬৫জন।
শিশুদের খাবারের টাকা এভাবে নয়ছয়ের কথা জানতে পেরে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে প্রশাসন। স্কুলে ঠিকমতো পরিদর্শন না হওয়ার ফলে এধরনের ঘটনা ঘটছে বলে মানছে জেলা প্রশাসন। বিষয়টি শহিদ মাতঙ্গিনীর বিডিও এবং তমলুক গ্রামীণ চক্রের এসআইয়ের নজরেও আনা হয়েছে। সোমবার ডিএম অফিস থেকে বেরনোর পর প্রধান শিক্ষিকাকে এনিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
সম্পর্কিত সংবাদ