নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: তিন বছরের শিশুকন্যা সহ স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করল স্বামী। বুধবার সাতসকালে হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির উত্তরপাড়া পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। তবে পাশের ঘরে থাকা আট বছরের বড় মেয়েকে স্পর্শ করেনি বাবা। ছোট মেয়ের পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহের জেরেই কি স্ত্রী ও কন্যাকে খুন, এই প্রশ্নই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। উত্তরপাড়ার ভদ্রকালীর একটি বাড়ির দোতলা থেকে বুধবার সকালে মৃত অবস্থায় পায়েল চট্টোপাধ্যায় (২৭) ও তাঁর ছোট মেয়ে আদৃতাকে (৩) উদ্ধার করা হয়। সেখানেই রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় পায়েলের স্বামী বছর চৌত্রিশের কাশীনাথ চট্টোপাধ্যায়কে। তার গলাতেও ছুরির গভীর ক্ষত। তাকে প্রথমে উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়েছে।
মৃতার পরিবার ও পুলিসের দাবি, পরিস্থিতি যা ছিল, তাতে বাইরে থেকে এসে কারও পক্ষে খুন করা সম্ভব নয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের একাংশের দাবি, কারখানার কর্মী কাশীনাথই স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে খুন করে নিজে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছে। প্রথমে ফল কাটার নতুন ছুরি দিয়ে ঘুমিয়ে থাকা ছোট মেয়ের গলা কাটে। পরে স্ত্রীর গলাতেও বসিয়ে দেয় ওই ছুরি। পায়েলের শরীরে আরও কিছু আঘাতের চিহ্ন থাকায় আক্রোশের তত্ত্বেই সিলমোহর দিতে চাইছেন তদন্তকারীরা। তবে শুধু এই তত্ত্বের উপর দাঁড়িয়ে তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান না তাঁরা। সম্ভাব্য সব দিকই খতিয়ে দেখা হবে বলে উত্তরপাড়া থানার অফিসাররা জানিয়েছেন। পুলিসি তদন্তে উঠে এসেছে, কাশীনাথ প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীর উপর অত্যাচার করত। পাশাপাশি স্ত্রীকে সন্দেহ করত। ছোট মেয়েকে দেখিয়ে বলত, ও আমার মেয়ে নয়। কাশীনাথ এখন পুলিসি নজরদারিতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পায়েলের দিদার বয়ানে পরিকল্পিতভাবে খুনের ইঙ্গিত মিলেছে।
ভদ্রকালীর ভাড়াবাড়িতে একটি ঘরে ছোট মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে থাকতেন পায়েল। পাশের ঘরে নাতনির বড় মেয়েকে নিয়ে থাকতেন বৃদ্ধা মামণি চক্রবর্তী। তিনি বলেন, প্রতিদিনই সকালে নাতজামাই আমাকে ডাকত। কিন্তু এদিন সে ডাকেনি। আমি ওদের ঘরের দরজা ঠেলতেই দেখি, রক্তস্রোত বয়ে যাচ্ছে। পাশের ঘরে থাকলেও চিৎকার বা আর্তনাদের কোনও শব্দ শুনতে পাইনি। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সকলেই জেগেছিলাম। তখনও অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়েনি। মামণিদেবীর ভাই চন্দন চক্রবর্তী বলেন, নাতজামাই মদ্যপান করত বলে পায়েলের সঙ্গে তার বিবাদ হতো। পাশাপাশি অন্য বিষয় নিয়েও তাদের মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য হতো। তবে বাইরে থেকে এসে কেউ খুন করেছে বলে মনে করি না। কাশীই সবটা ঘটিয়েছে।
পুলিস ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কাশীনাথ হাওড়ার লিলুয়ায় একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় কাজ করে। আগে উত্তরপাড়ার অন্য একটি জায়গায় পরিবার নিয়ে থাকত। বছরখানেক আগে ভদ্রকালীর এই বাড়ির দোতলায় ভাড়ায় উঠেছিল এই পরিবার। তদন্তকারীদের দাবি, কী কারণে স্ত্রী ও ছোট মেয়ে খুন হয়েছে, তা জানার জন্য কাশীনাথকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সে খানিকটা সুস্থ হলেই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।