Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টলিউড, দক্ষিণী সিনেমা-সিরিয়ালে অভিনয়, দু’বছর ধরে কলকাতায় ঘাঁটি কেন? বাংলাদেশি শান্তাকে ঘিরে ‘রহস্য’

ভুয়ো আধার, রেশন কার্ড সহ ধৃত বাংলাদেশি নাগরিক শান্তা পালকে নিয়ে রহস্য ক্রমেই বাড়ছে।

টলিউড, দক্ষিণী সিনেমা-সিরিয়ালে অভিনয়, দু’বছর ধরে কলকাতায় ঘাঁটি কেন? বাংলাদেশি শান্তাকে ঘিরে ‘রহস্য’
  • ১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভুয়ো আধার, রেশন কার্ড সহ ধৃত বাংলাদেশি নাগরিক শান্তা পালকে নিয়ে রহস্য ক্রমেই বাড়ছে। মডেলিংয়ের সঙ্গে সিনেমা-সিরিয়ালে অভিনয়, নাকি অন্য কোনও কারণে তিনি দু’বছর ধরে কলকাতায় ঘাঁটি গেড়ে ছিলেন? প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা।  বিশেষত বেশ কিছু সরকারি অফিসারের সঙ্গে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে কেন বন্ধুত্ব পাতিয়েছিলেন বাংলাদেশি শান্তা, সেই প্রশ্নও ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। যে দালালদের মাধ্যমে বর্ধমান ও কলকাতার ঠিকানায় আধার কার্ড বানিয়েছিলেন শান্তা, তাদের খোঁজ শুরু করেছে লালবাজার।  

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশি শান্তা সেদেশে একটি বিউটি কুইন প্রতিযোগিতায় প্রথম হন। তারপরই মডেলিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। এই কাজের সুবাদে বৈধভাবে ভারতেও আসেন। পরে তিনি বিমান সংস্থায় ক্রু’র চাকরি করতে শুরু করেন। তবে মডেলিং ও সিনেমার প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল। বিভিন্ন প্রযোজকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ২০২০ সালে একটি তামিল ও টলিউডে একটি বাংলা সিনেমার জন্য চুক্তিও করেন। কোভিডের কারণে সেই সিনেমার শ্যুটিং শুরু হয় ২০২৩ সালে। অভিনয়ের জন্য বেশ কয়েকবার ভারতে আসেন। যদিও সিনেমাগুলি রিলিজ হয়নি বলে জানা যাচ্ছে।
 শান্তা গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমের সূত্র ধরে তাঁর সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা এক যুবকের পরিচয় হয়। তাঁর সঙ্গে প্রণয়ঘটিত সম্পর্কে জড়ান। মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত ওই যুবককে বিয়ে করে পাকাপাকিভাবে কলকাতায় থাকার জন্য শহরে আসেন ২০২৩’সালে। কিন্তু চাইলেও, ম্যারেজ সার্টিফিকেট দেখাতে পারেননি শান্তা। তিনি জানান, তাঁদের ডিজিটাল বিয়ে হয়েছিল। ডিজিটাল সই দেখানোর চেষ্টা করেন। সেটা ভুয়ো বলে জেনেছেন অফিসাররা। তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি গল্ফগ্রিনে বাড়ি ভাড়া নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের ওই যুবকের সঙ্গে থাকছিলেন। কিছুদিন পর তাঁর মা সহ পরিবারের অন্যদের বাংলাদেশ থেকে এখানে নিয়ে আসেন শান্তা। 
শান্তা গোয়েন্দাদের কাছে দাবি করেছেন, তিনি টলিউডে অভিনয়ের চেষ্টা করছিলেন। তারজন্য বিভিন্ন প্রযোজকদের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। কিছু কাজও করেন। বড় ধরনের কাজ না মেলায়, তিনি সিরিয়ালে অভিনয় ও মডেলিং করে রোজগার করছিলেন। এর পাশাপাশি রিলস করেও টাকা আসছিল। যদিও তাঁর বক্তব্য পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না তদন্তকারীরা। দু’বছর ধরে কলকাতায় থাকার পরেও বড় কোনও কাজ না করায়, তাঁকে নিয়ে সন্দেহ ক্রমেই বাড়ছে। তাঁর গতিবিধি জানতে ওই যুবককেও জেরা করা হচ্ছে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে তাঁর প্রোফাইল ঘেঁটে অফিসাররা দেখেছেন, বিভিন্ন সরকারি কর্মীকে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন। সকলেই তা গ্রহণ করেন। হঠাৎ করে তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্বে তিনি আগ্রহী হলেন কেন, এটা ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। সেই কারণে মোবাইলের কল ডিটেইলস ঘেঁটে তাঁরা জানার চেষ্টা করছেন, এই তিন বছরে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন শান্তা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ