Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শৌচালয়ের জন্য বরাদ্দ টাকায় হল বিশ্রামাগার, আত্মসাতের অভিযোগ

শৌচালয়ের জন্য বরাদ্দ টাকায় হল বিশ্রামাগার, আত্মসাতের অভিযোগ
  • ৩০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: ছিল রুমাল হয়ে গেল বিড়াল। অদৃশ্য জাদুকাঠির ছোঁয়ায় শৌচালয় পাল্টে হয়ে গিয়েছে বিশ্রামাগার। পুরুলিয়ার আড়ষা ব্লকের হেঁসলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এমন তাজ্জব কাণ্ড দেখে হতবাক সকলে। অনিয়ম হয়েছে মেনেই পঞ্চায়েতের দাবি, গ্রামবাসীদের চাপে এমন কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। যদিও এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, টাকা আত্মসাৎ করতেই এরকম করা হয়েছে। 
Advertisement
পুরুলিয়ার আড়ষা ব্লকের অন্তর্গত হেঁসলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ঝুঁঝকা গ্রামে একটি কমিউনিটি টয়লেট তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় গ্রাম পঞ্চায়েত। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় টেন্ডার হয়। কমিউনিটি টয়লেট তৈরির জন্যই ওয়ার্ক অর্ডার দেয় পঞ্চায়েত। কিন্তু বাস্তবে দেখা গিয়েছে, শৌচালয়ের পরিবর্তে বিশ্রামাগার তৈরি করা হয়েছে। আবার ওই বিশ্রামাগারের গায়েই লেখা হয়েছে, নদীর পাশে কমিউনিটি শৌচালয় তৈরি করা হয়েছে। এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে ওই কাজটি করা হয়েছে এবং চলতি বছরের জুন মাসে কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দেওয়ালে লেখা রয়েছে। ভেতরে ঢুকে দেখা যায় শুধু মাত্র একদিকে সিমেন্টের বাঁধানো বসার জায়গা রয়েছে। ভেতরে শৌচালয়ের আর কিছুই নেই। গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, শৌচাগার তৈরির জন্য অর্থ বরাদ্দ হলেও তা না করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাঁদের আরও দাবি, যদি শৌচালয়ের পরিকল্পনা বদল করে বিশ্রামাগার তৈরির পরিকল্পনা হয়, তাহলে শৌচালয়ের পোস্টার কেন দেওয়া আছে? হেঁসলা গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক উজ্জল পরামানিক বলেন, শৌচালয় তৈরি করার পরিকল্পনা হয়েছিল এবং তার জন্যই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল একথা ঠিক। কিন্তু গ্রামবাসীদের একাংশ ওই এলাকায় শৌচালয় তৈরি করতে দেননি। তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁদের শৌচালয়ের প্রয়োজন নেই। সোক পিট তৈরি করতে দেননি। তাই বিশ্রামাগার তৈরি করা হয়েছে। অনিয়ম হয়েছে এ কথা ঠিকই। তবে চাপে পড়লে সবই হয়। হেঁসলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দিবাঙ্গীণী কুমার বলেন, গ্রামবাসীরা শৌচালয় চাননি। তাই বিশ্রামাগার হয়েছে। তবে গোটা বিষয়টি নির্মাণ সহায়কই ভালো জানেন। এ বিষয়ে আড়ষার বিডিও বলেন, এরকম বিষয় জানা নেই। কোনও অভিযোগ পাইনি।
সম্পর্কিত সংবাদ