সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ওপর ভরসা রেখে সাতবছরের ভাইপোকে ফিরে পেলেন কোচবিহার জেলার জোরাইয়ের সুব্রত ঘোষ। হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের চিকিৎসকদের হাতযশে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এল সুপ্রতিম ঘোষ। খাবারের প্যাকেটের সঙ্গে পাওয়া বাঁশি শুক্রবার সকালে বাজাচ্ছিল এই খুদে। হঠাৎ সেই বাঁশি গলায় নেমে আটকে যায়। কাকা সুব্রত বলেন, এটা বুঝতে পেরেই গলায় আঙুল দিয়ে বমি করাই। বাঁশির একটি টুকরো বেরিয়ে আসে। কিন্তু বাকি অংশ গলায় আটকে থাকে। প্রচণ্ড যন্ত্রনায় কাঁদছিল। আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওরা জানায় ইএনটির কোনও চিকিৎসক সেদিন বসবেন না। প্রাইভেট চেম্বারে এক ডাক্তারকে দেখালে তিনি এক্স-রে করতে বলেন। তারপর কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গেলে এক্স-রে করার পর ভর্তি করতে বলা হয়। সেসময় অমল বসাক নামে এক চিকিৎসক এক্স-রে প্লেট দেখে আমাদের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে আসতে বলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার ভাইপোকে নিয়ে এসে ভর্তি করাই।
Advertisement
ইএনটি বিভাগের প্রধান ডাঃ রাধেশ্যাম মাহাতর নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক সুপ্রতিমের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন ফুসফুসের মুখে শ্বাসনালিতে বাঁশির তিনটি টুকরো আটকে রয়েছে। শনিবার ডাঃ রাধেশ্যাম মাহাত বলেন, সিটিস্ক্যান সহ সবরকম পরীক্ষা করে দেখি বাঁশির টুকরোগুলি ঝুঁকিপূর্ণভাবে আটকে রয়েছে। এতে অক্সিজেনের অভাবে প্রাণসংশয়ের সম্ভাবনা ছিল। বেশিক্ষণ থেকে গেলে ফুসফুসে সংক্রমণ হতে পারত। আমরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেই। এদিন সকাল দশটায় ব্রঙ্কোস্কোপি করে সুপ্রতিমের গলার ভেতর থেকে বাঁশির তিনটি টুকরো বের করা হয়। এখন স্থিতিশীল রয়েছে সুপ্রতিম। সে বিপদমুক্ত।
কাকা সুব্রত ঘোষ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বলেন, কোনও টাকা খরচ না করেই আমার ভাইপোকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারলাম এখানকার চিকিৎসকদের জন্য। ডাঃ রাধেশ্যাম মাহাত বলেন, সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষ রাখলে বাইরে প্রচুর টাকা খরচ করে গরীব মানুষকে সর্বশান্ত হতে হয় না। এখানেও প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সমস্যা রয়েছে। আমরা ডাক্তাররা নিজেরা টাকা দিয়ে সেরকমই কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে এখানকার অপারেশন থিয়েটারকে শক্তিশালী ও আধুনিক করেছি।
কাকা সুব্রত ঘোষ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বলেন, কোনও টাকা খরচ না করেই আমার ভাইপোকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারলাম এখানকার চিকিৎসকদের জন্য। ডাঃ রাধেশ্যাম মাহাত বলেন, সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষ রাখলে বাইরে প্রচুর টাকা খরচ করে গরীব মানুষকে সর্বশান্ত হতে হয় না। এখানেও প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সমস্যা রয়েছে। আমরা ডাক্তাররা নিজেরা টাকা দিয়ে সেরকমই কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে এখানকার অপারেশন থিয়েটারকে শক্তিশালী ও আধুনিক করেছি।



