অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: সংসারের জোয়াল টেনে যিনি আজ রোগগ্রস্ত, সেই সংসারে তিনিই এখন বোঝা! শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। নয় নয় করে তিন মাস পার। বাড়ির কেউ খোঁজখবর নিতে আসেননি। বেডই তাঁর সংসার। ডাক্তারবাবুরা যা খেতে দেন, সেটাই খান। সারাক্ষণ বেডে শুয়ে থাকার একঘেয়েমি কাটাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টুকটাক কাজও করেন।
Advertisement
আউশগ্রামের বননবগ্রাম ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সেখানে নিত্যদিন বহু রোগী আসেন। সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরে যান। মেল ওয়ার্ডের একটি বেডে বসে সেই দৃশ্য দেখেন মহাদেব বাউরি। দু’চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। ভাবেন অতীত দিনের কথা। ভাবতে ভাবতে উদাসী হয়ে যান—একটা সময় ছিল তাঁর ভরা সংসার। ভাই-ভাইয়ে দুর্দান্ত সম্পর্ক। দিনমজুরি করে যা রোজগার করতেন, সেটাই ভাইদের হাতে তুলে দিতেন। সংসারে অভাব থাকলেও সুখ ছিল। তারপর বিয়ে করলেন। বেশ ভালোই কাটছিল। কিন্তু, কোনও সন্তান-সন্ততি হল না। এখন মহাদেব পঞ্চাশের কোঠায়। ক’বছর আগে স্ত্রী গোঁসা করে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছেন। সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েন তিনি। সেই সঙ্গে শরীরে বাঁসা বাধে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা। ভারী করতে গেলেই সমস্যা বাড়ে। ভাইয়েরা মুখ তুলে তাকান না।
অগত্যা ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হন আউশগ্রাম -১ ব্লকের মিরসা গ্রামের বাসিন্দা মহাদেব। আজ প্রায় তিনমাস সেখানেই ভর্তি। বাড়ির কেউ খোঁজখবর রাখেন না। নিতেও আসেন না। ডাক্তারবাবুরা ভালোবেসে দু’বেলা দু’মুঠো খেতে দেন। কৃতজ্ঞতাবশত, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কিছু কাজকর্ম করে দেন মহাদেব। চিকিৎসক শেখ ওমর ফারুক মঙ্গলবার বলছিলেন, ‘মহাদেব বাবু খুবই দরিদ্র মানুষ। তাঁর চিকিৎসার ওষুধ কেনার ক্ষমতা নেই৷ বাড়িতে তাঁকে কেউ দেখার নেই৷ তাই আমরা তাঁকে স্বাস্থ্যেকেন্দ্রের বেডেই রোগী হিসেবে ভর্তি করে রেখেছি৷ আমরাই তাঁর ওষুধ সরবরাহ করি৷ দু’বেলা খাওয়ার ব্যবস্থাও করে দিয়েছি।’
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখন অনেকটাই সুস্থ মহাদেব। সব সময় শ্বাসকষ্টতে ভোগেন না৷ ভালো থাকলেই বসে থাকেন না। স্বাস্থ্যেকেন্দ্রের কোয়ার্টারে চলে যান। রোগীদের খাবার তৈরির কাজে সহযোগিতা করেন৷ তাঁদের ফাইফরমায়েশ খাটেন। সবকিছু করেন হাসিমুখে। রোগীর চাপ বাড়লে তিনি নিজের বেড ছেড়ে দেন৷ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেঝেতে শুয়েই রাত কাবার করে দেন। জীবনে এমন দিন আসবে তা অবশ্য ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি মহাদেব। তিনি বলছিলেন, ‘আমার বাড়ি, ঘর সবই রয়েছে। কিন্তু অসুস্থ হলে আমাকে কেউ দেখার নেই৷ এখন আর রোজগার করতে পারি না বলে সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমার হাসপাতালই ভরসা। বাকি জীবনটুকু না হয় ডাক্তারবাবুদের ভরসাতেই কাটিয়ে দেব৷
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রোগীদের খাবারের দায়িত্বে থাকা পারসোনা শেখ আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘একটা মানুষ সংসারের জন্য সারাজীবন করেও কোনও সুখ পেলেন না৷ উনি রোগী হিসেবে ভর্তি থাকলেও আমাদের কাজে খুব সাহায্যে করেন৷ স্বাস্থ্যকেন্দ্রই ওঁর ঘর বাড়ি৷ আমাদের বড় আপনজন হয়ে গিয়েছেন।’
অগত্যা ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হন আউশগ্রাম -১ ব্লকের মিরসা গ্রামের বাসিন্দা মহাদেব। আজ প্রায় তিনমাস সেখানেই ভর্তি। বাড়ির কেউ খোঁজখবর রাখেন না। নিতেও আসেন না। ডাক্তারবাবুরা ভালোবেসে দু’বেলা দু’মুঠো খেতে দেন। কৃতজ্ঞতাবশত, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কিছু কাজকর্ম করে দেন মহাদেব। চিকিৎসক শেখ ওমর ফারুক মঙ্গলবার বলছিলেন, ‘মহাদেব বাবু খুবই দরিদ্র মানুষ। তাঁর চিকিৎসার ওষুধ কেনার ক্ষমতা নেই৷ বাড়িতে তাঁকে কেউ দেখার নেই৷ তাই আমরা তাঁকে স্বাস্থ্যেকেন্দ্রের বেডেই রোগী হিসেবে ভর্তি করে রেখেছি৷ আমরাই তাঁর ওষুধ সরবরাহ করি৷ দু’বেলা খাওয়ার ব্যবস্থাও করে দিয়েছি।’
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখন অনেকটাই সুস্থ মহাদেব। সব সময় শ্বাসকষ্টতে ভোগেন না৷ ভালো থাকলেই বসে থাকেন না। স্বাস্থ্যেকেন্দ্রের কোয়ার্টারে চলে যান। রোগীদের খাবার তৈরির কাজে সহযোগিতা করেন৷ তাঁদের ফাইফরমায়েশ খাটেন। সবকিছু করেন হাসিমুখে। রোগীর চাপ বাড়লে তিনি নিজের বেড ছেড়ে দেন৷ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেঝেতে শুয়েই রাত কাবার করে দেন। জীবনে এমন দিন আসবে তা অবশ্য ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি মহাদেব। তিনি বলছিলেন, ‘আমার বাড়ি, ঘর সবই রয়েছে। কিন্তু অসুস্থ হলে আমাকে কেউ দেখার নেই৷ এখন আর রোজগার করতে পারি না বলে সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমার হাসপাতালই ভরসা। বাকি জীবনটুকু না হয় ডাক্তারবাবুদের ভরসাতেই কাটিয়ে দেব৷
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রোগীদের খাবারের দায়িত্বে থাকা পারসোনা শেখ আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘একটা মানুষ সংসারের জন্য সারাজীবন করেও কোনও সুখ পেলেন না৷ উনি রোগী হিসেবে ভর্তি থাকলেও আমাদের কাজে খুব সাহায্যে করেন৷ স্বাস্থ্যকেন্দ্রই ওঁর ঘর বাড়ি৷ আমাদের বড় আপনজন হয়ে গিয়েছেন।’



