Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্বশুরবাড়ির কাছে গা ঢাকা দিয়েও শেষরক্ষা হল না বিহারের যুবকের

শ্বশুরবাড়ির কাছে গা ঢাকা দিয়েও শেষরক্ষা হল না বিহারের যুবকের
  • ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ফিটফাট। সর্বদা পরনে শার্ট ও জিন্স। এমন পোশাকে শিলিগুড়িতে শ্বশুরবাড়ির কাছে আস্তানা গেড়েও রক্ষা পেল না বিহারের যুবক রবীন্দ্রপ্রসাদ সিং। ট্যাব কাণ্ডে পূর্ব বর্ধমান পুলিসের জালে ফাঁসতেই কীর্তি ফাঁস। সে কিষানগঞ্জে মোবাইল ফোনের দোকানে ব্যাঙ্কের কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট (সিএসপি) চালু করেই প্রতারণা চক্রের জাল বিস্তার করে বলে সন্দেহ। শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, শিলিগুড়ি ও দার্জিলিংয়ের ট্যাব কাণ্ডের সঙ্গে ধৃত জড়িত বলেও সন্দেহ পুলিসের। তাদের ধারণা, কসমোপলিটন শহর শিলিগুড়িকে সে আত্মগোপনের জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছিল। ট্যাব কাণ্ড নিয়ে জোরদার তদন্তে নেমেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। কিছুদিন ধরেই রাজ্য পুলিস এ ব্যাপারে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে। এই অবস্থায় কয়েকদিন আগে কিষানগঞ্জ থেকে এখানে আসে রবীন্দ্রপ্রসাদ। প্রধাননগর থানার দেবীডাঙায় তার শ্বশুরবাড়ি। ভাড়াবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী ও মেয়ে থাকে। সেই ভাড়া বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে কাজ খুঁজছিল। বুধবার রাতে প্রধাননগর থানার পুলিসের সহযোগিতায় রবীন্দ্রপ্রসাদকে গ্রেপ্তার করে পূর্ব বর্ধমান জেলার পুলিস। পুলিস সূত্রের খবর, কিষানগঞ্জে মোবাইল ফোনের দোকান রয়েছে ধৃতের। কয়েক মাস আগে সেই দোকানেই ব্যাঙ্কের সিএসপি চালু করে। অভিযোগ, ভুল বুঝিয়ে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে আধার কার্ড সহ বিভিন্ন ধরনের নথি জোগাড় করত সে। যার ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছিল। আবার কমিশনের টোপ দিয়ে কিছু কিছু গ্রামবাসীর কাছ থেকে অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সেই অ্যাকাউন্টগুলিতেই ঢোকে ট্যাবের টাকা। সূত্র মারফত খবর পেয়ে অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিস। ধৃতের স্ত্রী অবশ্য বলেন, দেবীডাঙায় আমার বাপেরবাড়ি। মেয়ের পড়াশোনার জন্য কয়েক বছর আগে এখানে আসি। স্বামী কিষানগঞ্জেই থাকতেন। মোবাইলের দোকান ও চাষাবাদ করে সংসার চালাতেন। মাঝেমধ্যে এখানে আসতেন। পুজোর আগে কিষানগঞ্জের দুই ব্যক্তির মাধ্যমে মোবাইল ফোনের দোকানে সিএসপি চালু করেন স্বামী। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিস ও গোয়েন্দাদের বক্তব্য, সাইবার অপরাধ সংগঠিত করার পর গা ঢাকা দিতেই সে শ্বশুরবাড়ির এলাকাকে বেছে নিয়েছিল। ধৃতের সঙ্গে কিষানগঞ্জের সীমানা সংলগ্ন উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর ও চোপড়ার সাইবার অপরাধীদেরও যোগাযোগ রয়েছে বলে খবর। শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, শিলিগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলার পড়ুয়াদের ট্যাবের টাকা গায়েবেই ধৃতের গ্যাংয়ের সংস্রব রয়েছে বলেই সন্দেহ। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ