সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: শনিবার থেকে কৃষ্ণগঞ্জের শিবনিবাস হাইস্কুল মাঠে শুরু ২৫২ বছরের বেশি পুরনো ভৈম একাদশীর মেলা। এই মেলা চলবে টানা ১৯ দিন ধরে। ওইদিন শিবনিবাসের শিবলিঙ্গে বিশেষ পুজো অর্চনা ও জল ঢালা হয়। পুজো উপলক্ষ্যে শিবনিবাস হাইস্কুল মাঠে বসেছে মেলা। মেলায় ২০০-র বেশি ছোট বড় দোকান পসরা সাজিয়েছে। মন্দিরের সেবাইত স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, শনিবার থেকে শিবলিঙ্গের মাথায় জল দেওয়া শুরু হয়েছে। যা শিবরাত্রি পর্যন্ত চলবে। ওইদিন বিশেষ পুজো হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে শুরু হবে জল দেওয়া, চলবে বিকেল পর্যন্ত। প্রসঙ্গত, একসময় বর্গিহানার আশঙ্কায় মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র কৃষ্ণনগর থেকে রাজধানী শিবনিবাসে নিয়ে যান। ১৭৫৪ সালে তিনি শিবনিবাসে বিরাট শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। রাজরাজেশ্বর নামে কষ্টিপাথরের এই শিবলিঙ্গের উচ্চতা প্রায় ৯ ফুট ও প্রস্থে ২৬ ফুট। শিবলিঙ্গের মাথায় জল দেওয়ার জন্য ওঠা ও প্রদক্ষিণ করে নামার জন্য সিঁড়িও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভৈম একাদশী দিনটি পালন করে শিবলিঙ্গে জল দেওয়া শুরু হয়। শিবলিঙ্গে জল দিতে দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। মেলাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পসরা নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। মেলায় বাসন, মাটির জিনিসপত্র, আসবাবপত্র সহ গৃহস্থালীর সমস্ত কিছু বিক্রি হয়। বিডিও সৌগতকুমার সাহা বলেন, দর্শনার্থী থেকে ভক্তদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য আমরা প্রশাসনিকভাবে পানীয় জল ও টয়লেটের ব্যবস্থা রাখছি। মেলার ক’দিন কড়া পুলিসি নিরাপত্তা থাকছে। আগত ভক্তদের জন্য একাধিক শৌচাগার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। শিবনিবাস পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিকাশ দাস বলেন, শিবনিবাসের এই ভৈম একাদশীর মেলা বহু প্রাচীন। মেলার সমস্ত রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।



