নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া গ্রামে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শওকত মোল্লা এনআইএর হাত থেকে বাঁচতে ভেড়ি পাল্টে পাল্টে রাত কাটিয়েছেন। পলায়ন পর্বে জীবনতলা ও বাসন্তীর মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছিলেন। ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য পাচ্ছে এনআইএ। তবে ‘দেখা মাত্রই গুলি’ করা হতে পারে, এই আশঙ্কা থেকেই প্রাক্তন বিধায়ক ধরা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একইসঙ্গে তদন্তকারীদের কাছে তাঁর দাবি, বিস্ফোরণের বিষয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানতেন। এমনকি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নির্দেশও এসেছিল। শনিবার অভিযুক্তকে ব্যাঙ্কশালে এনআইএর বিশেষ আদালতে তোলা হলে তাঁকে ১৪ দিনের জন্য তদন্তকারীদের হেফাজতে পাঠানো হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কামালগাজি থেকে এনআইএ’র হাতে ধরা পড়েন শওকত মোল্লা। তদন্তে উঠে আসে, বিস্ফোরণে ঘটনার পর জড়িতদের সঙ্গে তিনি ফোনে যোগাযোগ রাখছিলেন। মৃত ও আহতদের সরিয়ে নিয়ে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার নির্দেশ দেন। শওকত তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, ভোটের আগে বড়সড় হামলার লক্ষ্যেই বোমা বাঁধার কাজ চলছিল। তবে ঘটনার পর পুলিশ কেন বিষয়টি লঘু করে দেখার চেষ্টা করল, সেটা ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। যে স্করপিও গাড়ি করে নিহত ও আহতদের পাচার করা হচ্ছিল, তার চালক তদন্তকারীদের জানান, শওকতের নির্দেশমতো এই কাজটি করা হচ্ছিল। তাকে নির্দেশ দেওয়া হয় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেহ লোপাট করে দিতে হবে। এরপর তৃণমূলের ওই নেতা এক সহযোগীকে ফোন করে বলেন, বিস্ফোরণস্থল জল দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। শওকতের নির্দেশমতো সেই কাজটি করা হয়। এরপরই ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ককে ধরতে তৎপর হয় এনআইএ। তদন্তকারী সংস্থা আসার আগেই মৌখালির বাড়ি থেকে পালিয়ে যান শওকত। তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, একাধিক ভেড়ি তাঁর দখলে রয়েছে। সঙ্গী এক শাগরেদ তাঁকে প্রথমে জীবনতলা এলাকার একটি ভেড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ কাটিয়ে চলে যান অন্য একটি ভেড়িতে। এভাবেই ভেড়ি পাল্টে পাল্টে থাকছিলেন। ভেড়ির নিরাপত্তারক্ষীর ফোন ব্যবহার করে শওকত বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। পরিবারের লোকজনের মোবাইলের সূত্রে জানা যায়, শওকত কাছাকাছি কোথাও রয়েছেন। অভিযুক্ত নেতা এনআইএকে জানিয়েছেন, তাঁর আশঙ্কা ছিল, এনকাউন্টারে মারা হতে পারে তাঁকে। সেই আশঙ্কা থেকেই পরিবারের কথা মতো, সেই কারণে ধরা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রবিবার অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়। এনআইএর আইনজীবী শ্যামল ঘোষ বলেন. ঘটনার পর শাগরেদদের সঙ্গে ‘টাইম টু টাইম’ যোগাযোগ রাখছিলেন শওকত। তাঁর নির্দেশ পালন করছিলেন অভিযুক্তরা। তাঁর মোবাইল বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সেটির ফরেনসিক পরীক্ষা করিয়ে জানা হবে, কাদের কাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। শওকতের আইনজীবী সুমন দাস বলেন. ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন। আর তিনি ওই সময় জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন। তাই তাঁর পক্ষে কীভাবে বিস্ফোরণে জড়ানো সম্ভব।