সংবাদদাতা, রামপুরহাট : অনুব্রত মণ্ডলের গালি-কাণ্ড থেকে নিজেকে সচেতনভাবে দূরেই রাখলেন বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। অনুব্রত ইস্যুতে এখন তোলপাড় গোটা জেলা। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার নিজের অভিনীত একটি সিনেমার সাফল্য কামনা করে তারাপীঠে পুজো দিতে এসে শতাব্দী। সেখানে তিনি বলেন, ‘গোটা বিষয়টি দল দেখছে। দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই হবে।’
দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর পর্দায় ফিরেছেন শতাব্দী রায়। আজ, শুক্রবার তাঁর অভিনীত একটি ভৌতিক সিনেমা রিলিজ পাচ্ছে। তার আগে এদিন সিনেমার সাফল্য কামনা করে পুরো টিম নিয়ে তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দেন তিনি।
পরে একটি বিলাসবহুল হোটেলে ছবির প্রমোশন করেন তিনি। সেখানে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘অনেক বছর পর সিনেমা করলাম। ভৌতিক ছবিটি সকলের ভালো লাগবে।’ এরপরই বর্তমান বীরভূমের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি হাতজোড় করে বলেন, ‘আজকে থাক। আজ সিনেমা নিয়ে কথা হোক।’ পরে অবশ্য অনুব্রত মণ্ডলের অডিও ফাঁস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবাই শুনেছেন। দলের নেতৃত্বরাও বিষয়টি জেনেছেন। তাঁরা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। যা কিছু সিদ্ধান্ত তাঁরাই নেবেন। এ ব্যাপারে আমার কোনও বক্তব্য নেই।’
দিন কয়েক আগে চোখের অপারেশন করিয়েছেন তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ তাঁর সঙ্গে দেখা করে গিয়েছেন। শতাব্দীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, আপানিও কি যাবেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘অপারেশনের পর দিনই আশিসদাকে ফোন করেছিলাম। ঠিক রয়েছেন। আজ বাড়িতে কয়েকটি মিটিং রয়েছে। তারপর আশিসদার সঙ্গে কথা বলে কলকাতা ফিরব।’ অনুব্রত মণ্ডলেরও শরীর খারাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুনেছি কোভিড হয়েছে। ওখানে যাওয়া যাবে না। হাতে সময় নেই। কলকাতা ফিরতে হবে। আশিসদার সঙ্গে দেখা করতে পারি।’ যদিও এদিন আশিসবাবু বিধানসভায় ছিলেন।
অন্যদিকে, তাঁর লোকসভা কেন্দ্রে কোনও সিনেমা হল না থাকার বিষয়টি এদিন উঠে আসে।
শতাব্দী বলেন, ‘বর্তমানে সিনেমা হলের কনসেপ্ট পাল্টে গিয়েছে। সিঙ্গেল স্ক্রিনের সিনেমা হল হলে চালাতে পারবে না। খোলনলচে পাল্টে আইনক্সের মতো করতে হবে। এসব জায়গায় সরকার থেকে যদি ওরকম কিছু করা যায় বা বোলপুরের গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহের মতো রেষ্টুরেন্ট ও বিনোদনের ব্যবস্থা রেখে সিনেমা হল করলে সেটা চলবে।’