নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে এক ঠিকাদারকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল পড়শি যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র শুক্রবার সকালে উত্তেজনা ছড়ায় শাসনে। চলে দফায় দফায় অবরোধ ও বিক্ষোভ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম আহমেদ আলি (৩৮)। হাফিজুল ইসলামের নামে শাসন থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই হাফিজুলকে গ্রেপ্তার করেছে শাসন থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শাসন পঞ্চায়েতের খামার-নওবাদ এলাকার বাসিন্দা আহমেদ আলি রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারি করতেন। বাড়িতে বাবা-মা ছাড়াও স্ত্রী ও তিনসন্তান আছে। বছর দেড়েক আগে শাসন বাজারে পড়শি হাফিজুল ইসলামের বাড়ি নির্মাণে কাজ করেন আহমেদ। সেই সূত্রে বেশ কিছু টাকা পাওয়া ছিল তাঁর। বারবার টাকা চেয়েও পাচ্ছিলেন না। বৃহস্পতিবার রাতে পাওনা টাকা চাইতে যাওয়াতে ঘটল বিপত্তি। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের জোরে বৃহস্পতিবার রাতেও ঠিকাদারকে পাওনা টাকা দেননি। উলটে তাঁকে মারধর করে। লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। আচমকা আহমেদের মুখে সজোরে ঘুসি মারে হাফিজুল। বেসামাল হয়ে পড়ে যাওয়ায় আঘাত লাগে মাথায়। মাথা ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন বারাসত হাসপাতালে। গভীর রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। শুক্রবার ছিল আহমেদ আলির বড়ো মেয়ের একাদশ শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা। কিন্তু, বাবা খুন হওয়ায় এদিন আর পরীক্ষা দিতে পারেননি আফ্রিদা খাতুন।
এদিকে, ক্ষুব্ধ গ্রামের বাসিন্দারা শুক্রবার সকালেই অভিযুক্তের গ্রেপ্তার সহ ক্ষতিপূরণের দাবিতে শাসনের আমিনপুর-বোয়ালঘাটা রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। এক ঘণ্টা ধরে চলে অবরোধ। ফলে রাজারহাট নিউটাউনের সঙ্গে বসিরহাটের সংযোগকারী রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে শাসন থানার পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ উঠে যায়। মৃতের বাবা মুর্শেদ আলি বলেন, আমি অভিযুক্ত হাফিজুলের ফাঁসি চাই। পাওনা টাকা চাইতে গেলে এভাবে মেরে ফেলল ছেলেকে। নিহতের মেয়ে আফ্রিদা বলে, বাবা ওঁর বাড়ি বানিয়ে দিয়েছিল। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে বাবাকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। এনিয়ে বারাসত পুলিশ জেলার সুপার প্রিয়ব্রত রায় বলেন, নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত হাফিজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে
শাসন থানা।