Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপি নেতা খুনের পিছনে ভিনরাজ্যের শার্প শ্যুটার! কোন পথে উধাও আততায়ীরা? খুঁজছে পুলিশ

বোলপুরে বিজেপির বুথ সভাপতিকে ফোন করেছিল কারা? পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিই বা চালিয়েছিল কে

বিজেপি নেতা খুনের পিছনে  ভিনরাজ্যের শার্প শ্যুটার! কোন পথে উধাও আততায়ীরা? খুঁজছে পুলিশ
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বোলপুরে বিজেপির বুথ সভাপতিকে ফোন করেছিল কারা? পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিই বা চালিয়েছিল কে? দু’জনেই কি একই ব্যক্তি? জবাব পেতে মরিয়া তদন্তকারী অফিসাররা। ইতিমধ্যেই সন্দেহজনক  দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাচক্রে তাদের একজন আবার বিজেপি নেতার ভাইয়ের বাল্যবন্ধু। কিন্তু, ধৃতরা সরাসরি গুলি করেনি বলে প্রাথমিক ধারণা তদন্তকারীদের। গুলি চালিয়েছিল অন্য কেউ। তবে, ঘটনার পর ৭২ ঘণ্টা কেটে গেলেও সেই মূল মাথা বা শ্যুটার অধরা।  খুনের পর আততায়ীরা কোন পথ ধরে এসেছিল, কোন পথেই বা বোলপুর ছেড়েছিল? সেই উত্তর খুঁজে পেলেও মূল মাথাকে নাগালে পাওয়ার কাজ অনেকটাই সহজ হবে বলে করছেন তদন্তকারীরা। 

Advertisement

রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ বোলপুর শহরের ত্রিশূলাপট্টি সংলগ্ন মিলপট্টির নির্জন রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন বিজেপির বুথ সভাপতি চন্দন ভল্লা। ফোন করে তাঁকে সেখানে ডেকে আনা হয়েছিল। আলো-আঁধারি রাস্তায় আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল আততায়ীরা। খুব কাছ থেকে গুলি চালানোর পর মুখঢাকা দুষ্কৃতীরা বাইকে চেপে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি না থাকায় তদন্তে নেমে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। 
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে বীরভূমের পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ ভুন্দেশ জানান, ঘটনায় এখন পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা বোলপুরের বাসিন্দা দীপঙ্কর রায় ওরফে টেনু এবং শেখ আনারুল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দনবাবুকে ফোন করে ডাকার সূত্র ধরেই তাদের কাছে পৌঁছন তদন্তকারীরা। আনারুলের আরতি মোড় এলাকার ফোনের দোকান থেকে ফোন ও সিম কেনার সূত্র তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, ধৃত দু’জনের সঙ্গে মূল শ্যুটারদের যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সামনে আসছে ভিন জেলার যোগের সম্ভাবনাও। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, মুখঢাকা ভাড়াটে খুনিরা বোলপুরের বাইরের এলাকা থেকে এসে থাকতে পারে। বাঁকুড়া কিংবা পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চল থেকে তারা এসেছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুনের পর তারা কোন রাস্তা ধরে বোলপুর ছাড়ল, সেই পথেরও খোঁজ চলছে। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি রাস্তা তাতালপুর কলোনির দিকে চলে গিয়েছে। সেই পথ দিয়েই কি ভিনজেলা থেকে ঢুকেছিল আততায়ীরা? নাকি শহরের ভিতর দিয়ে মিলপট্টিতে পৌঁছেছিল? মোবাইলের অবস্থান, কলের তথ্য ও সম্ভাব্য পালানোর পথ মিলিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। 
তদন্তে জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিবাদের সম্ভাবনাও উঠে আসছে। চন্দনবাবু নিজেও জমি-জায়গার কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ধৃত দীপঙ্করও জমি সংক্রান্ত ব্যবসা করতেন। বোলপুর শহর লাগোয়া সিয়ান এলাকায় কয়েক বিঘা জমি ঘিরে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন ও বিবাদের কোনো যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত বিজেপি নেতার ভাই কার্তিক ভল্লা বলেন, ‘অল্প কিছু লাভের জন্য কেউ মার্ডার করে না, এটা আমার ধারণা। দীপঙ্কর আমার ছোটবেলার বন্ধু। একসঙ্গে স্কুলে পড়েছি। আনারুলকেও জানতাম। দীপঙ্কর জমি-জায়গার ব্যবসা করে। আমার দাদা তো আর কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করত না,  যে তাকে মার্ডার করে দিতে হবে? আসল খুনিকে ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করুক পুলিশ।’ 
ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক দল। তদন্তে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি ও এসটিএফকেও যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার জোর তদন্ত চলছে। আশা করছি দ্রুত মূল অপরাধীরা ধরা পড়বে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ