Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নববর্ষে অন্তরালে রইল শান্তিপুরের শতবর্ষ প্রাচীন সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির

নববর্ষে অন্তরালে রইল শান্তিপুরের শতবর্ষ প্রাচীন সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: নববর্ষ মানেই ব্যবসায়ীদের গণেশপুজো। অথচ নববর্ষেও লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে যায় শান্তিপুরের প্রাচীন সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির। শতবর্ষপ্রাচীন এই মন্দিরে টেরাকোটার অপরূপ কারুকার্য রয়েছে।

Advertisement

১১৬ বছর আগে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তখনও শান্তিপুর এত জমজমাট হয়নি। যদিও শহরে কয়েক ডজন মন্দির থাকায় আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্র হিসেবে শান্তিপুরের আলাদা পরিচিতি ছিল। এখানকার সূত্রাগড় এলাকায় বেশ অবস্থাপন্ন জমিদার ছিলেন কার্তিকচন্দ্র দাস। আন্তর্জাতিক স্তরে গুড়ের ব্যবসাও করতেন তিনি। কিন্তু নিঃসন্তান জমিদারের দুশ্চিন্তা ছিল, তাঁর অবর্তমানে জমিদারি সামলাবে কে? শোনা যায়, একদিন মাঝগঙ্গায় এক সন্ন্যাসীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। নিঃসন্তান হওয়ার যন্ত্রণা ওই সন্ন্যাসীকে জানান জমিদারমশাই। তখন ওই সাধু বলেন, একটি গণেশ মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণেশবিগ্রহের শুঁড় থাকবে বাঁদিকে। জমিদার আর দেরি করেননি। মন্দির প্রতিষ্ঠার পরই তাঁর প্রথম সন্তান হয়। সন্ন্যাসীর নাম অনুযায়ী ছেলের নাম রাখেন সাধু সিদ্ধেশ্বর দাস। দ্বিতীয় সন্তানের নাম রাখেন হরকালী দাস। হরকালী দাস বড় হয়ে শান্তিপুরের রাজনীতিতে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। দুই সন্তান পেয়ে নববর্ষ ও ভাদ্রমাসের শুক্লা চতুর্থীতে সাড়ম্বরে গণেশ আরাধনা শুরু করেন জমিদার। এখনও বেশ আড়ম্বরের সঙ্গেই গণেশ মন্দিরে সেই পুজো হয়।
সূত্রাগড়ে ছুতোরপাড়ায় রঘুনাথ জিউ মন্দির থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই শান্তিপুরের এই প্রাচীন মন্দিরটি রয়েছে। তবে প্রচার ও সংস্কারের অভাবে সেটি ধুঁকছে। মন্দিরের পুরোহিত বলেন, একসময় সন্তান পাওয়ার আশায় কে.সি. দাস এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নববর্ষ ও ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থীতে বিশেষ পুজো হয়। আমাদের পরিবার বংশপরম্পরায় এই মন্দিরের পুরোহিত। আমার ঠাকুরদা অটল চক্রবর্তী মন্দিরের প্রথম পুরোহিত ছিলেন। তারপর আমার বাবা জনমেজয় চক্রবর্তী পুজো করেছেন। পরবর্তীকালে জমিদারের পরিবার তাদের সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে কলকাতায় চলে যায়। মন্দির তো আর বিক্রি হয় না। তাই অবশিষ্ট সম্পত্তি হিসেবে মন্দিরটি রয়ে গিয়েছে। এখন আমি নিজের খরচে মন্দিরের দেখাশোনা করি। এখানে শিব-পার্বতীর পুত্র গণেশকে সিদ্ধিবিনায়ক হিসেবে পূজা করা হয়। সংস্কারের অভাবে মন্দিরের মূল ভবন একটু একটু করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। টেরাকোটার কিছু সুদর্শন কাজ আস্তে আস্তে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। মন্দিরটির ঐতিহ্য অটুট রাখার চেষ্টা চালাচ্ছি। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ