নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রবিবার রামনবমীকে কেন্দ্র করে বিজেপি সাংসদ বনাম তৃণমূল বিধায়কের কয়েকপ্রস্থ বাক্যবাণ গ্রীষ্মের উত্তাপকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল। তৃণমূল বিধায়কের রামমন্দির সংস্কারকে ‘বিলম্বিত বোধোদয়’ বলে কটাক্ষ করেন বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। পাল্টা বিজেপি সাংসদকে সনাতনী ‘পাঠ’ দেন তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে মন্দির শহর শান্তিপুর। সমস্ত ধর্মীয় উৎসবই সেখানে পালিত হয় সাড়ম্বরে। যেমন হরিপুর অঞ্চলের রামনবমীর দোল এলাকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব। রবিবার সেখানে এসেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এখনও বিভিন্ন জায়গায় রামনবমী পালনে প্রশাসনের বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। রামের পুজো করতে গেলে পুলিস তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কোথাও পুলিস পাহারায় পুজোর আয়োজন করতে হচ্ছে। অথচ ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে রাম আদর্শ।
তাহলে ভারতে রামের পুজো কেন হবে না? তিনি কেবল ধর্মীয় দেবতা নন, একজন শাসক এবং আদর্শ পুরুষও বটে। এরপরই তৃণমূল এবং শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, এখন যদি তাঁরা রামের আরাধনা করতে এগিয়ে আসেন তাহলে বলব ‘বিলম্বিত বোধোদয়’ হয়েছে। যদি তাঁরাও রামের পুজো করতেন তাহলে তো বিরোধ থাকতই না। তবে হতেই পারে এটা এখন ভোটের লোভে করছেন। এক সময়ে বিরোধিতা করে অনেক অন্যায় করেছেন। ভোট আসছে। তাই এভাবেই চাইছেন ভোট। আমার উপদেশ, অন্তর থেকে রামের আরাধনা করুন ওঁরা। ভোটের লোভে বা ভোট ধরার জন্য যেন না করেন।
পাল্টা আক্রমণে বিজেপি সাংসদকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়েননি তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী। নিজের অদ্বৈত আচার্যের বংশ পরিচয় টেনে পাল্টা সনাতনী উদারতার পাঠ দেন তিনি। বিধায়ক বলেন, উনি রাম পূজায় এসেছিলেন শুনে খুশি হলাম। কিন্তু মুখে হিন্দুত্বের কথা বলে মন্দিরগুলোর উন্নয়নে নেই কেন?
শান্তিপুরে ৩০০ বছরের রঘুনাথ জিউ মন্দির যা শান্তিপুরের অন্যতম প্রাচীন রামমন্দির, তার সংস্কার করছি আমরা। আমি নিজে একজন সনাতন ধর্মরক্ষাকারী বংশের সদস্য। তাই আমি জানি ঈশ্বর সাধনা কীভাবে করতে হয়। উনি বলছেন, বিলম্বিত বোধোদয়, রামনবমীতে আমরা অর্থাৎ বৈষ্ণবরা উপবাস করি বহু যুগ ধরে। উনি আমাদের শেখাবেন? কালীঘাট থেকে কঙ্কালীতলা— বহু মন্দির এবং মন্দির সংলগ্ন পরিকাঠামোর উন্নয়ন করেছে তৃণমূল সরকার।
এদিকে, কৃষ্ণনগর শহরে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের তরফে রামনবমীর বিকেলে বিশাল শোভাযাত্রা হয়। সেখানে রীতিমতো প্রকাশ্যে অস্ত্র সহ মিছিল হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে তলোয়ার, দা, হাঁসুয়া এবং খাঁড়ার মতো বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ছিল। সেই মিছিলে ছিলেন খোদ কৃষ্ণনগর রাজ পরিবারের ‘রানিমা’ অমৃতা রায়। পুলিস মিছিল থেকে বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার করে।