নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এমনই অভিযোগ তুলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের উপর চড়াও হলেন রোগীর পরিবারের লোকজন। চিকিৎসককে মারধর ও হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ওই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এনিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিপুরের লক্ষ্মীতলাপাড়া এলাকার বৃদ্ধ তারক পোদ্দারকে(৬৫) শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে বৃহস্পতিবার শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁর অবস্থা প্রথম থেকেই সঙ্কটজনক ছিল। ফলে জরুরি ভিত্তিতে ওই রোগীকে রেফার করা হতে পারে বলে রোগীর পরিবারকে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রাতের দিকে ওই রোগীর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ওই রোগীর পরিজনরা। তাঁরা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসককে বেধড়ক মারধর করেন। হাসপাতালের জানালা সহ বেশকিছু জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতাল চত্বরে। প্রথমে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিস হাসপাতালে আসে। পুলিসের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শান্তিপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে চিকিৎসককে মারধর ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। বিষয়টি নিয়ে শান্তিপুর হাসপাতালের সুপার তারক বর্মন বলেন, রোগী মৃত্যুর দায় চিকিৎসক ও হাসপাতালের উপর চাপিয়ে একদল লোক চিকিৎসককে মারধর ও ভাঙচুর চালিয়েছে। আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। পুলিসের এক কর্তা বলেন, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে শনিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।